kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ পেলেন পান্না, কে দেবেন ভর্তির টাকা?

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ পেলেন পান্না, কে দেবেন ভর্তির টাকা?

পান্না আক্তার।

দিন মজুরের মেয়ে পান্না আক্তার। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। অন্যের জমিতে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করা শ্রমিক বাবার পক্ষে কোনোভাবেই ভর্তির টাকা যোগান দেওয়া সম্ভব না। ভর্তির টাকা যোগাতে না পারলে তার মেডিক্যালে পড়া হবে না। 

বিদ্যা আর বুদ্ধিতে এলাকার সেরা শিক্ষার্থী পান্না আক্তার নীরবে চোখের পানি মুছে সময় কাটাচ্ছেন। পান্না চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের রায়চোঁ গ্রামের দুলাল মিয়া ও কোহিনূর বেগমের মেয়ে। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় পান্না ছয়শ ৭২তম স্থান অর্জন করেন। তিনি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন। 

পান্নার মা কোহিনূর বেগম জানান, ‘আমরা গরীব লোক। তার বাবা কাজ করলে খাবার জুটে কাজ না করলে, না খেয়ে থাকতে হয়। মেয়েটি অনেক মেধাবী কিন্তু গরীবের মেধা দিয়ে কি অইবো! কাজ করলে তো ভাত! স্কুলে থাকতে বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করতো পান্না। তবে কলেজে গিয়ে কাজ না করলেও বহুদিন না খেয়ে কলেজে গিয়েছে। কলেজের স্যারেরা তার পড়ার খরচ না দিলে তাকে পড়ানো সম্ভব ছিল না। অনেকে তো মেয়ের জন্য অনেক কিছু করেছে; কিন্তু এখন মেয়েটি ডাক্তারিতে চান্স পেয়েছে। কিন্তু তাকে পড়াবে কে?’

অনেকটা কান্না জড়িত কণ্ঠে পান্না আক্তার বলেন, ‘আমাকে পড়ালেখার জন্য অনেক ত্যাগ করতে হচ্ছে। ভালো খাবার কিংবা ভালো জামা-কাপড় কী তা আমি জানি না। পড়ালেখায় ভালো বলে স্কুলে থাকতে স্কুলের স্যারদের কারণে এসএসসি পাশ করি। হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির পর থেকে পাশ করা পর্যন্ত সবকিছু ফ্রি করে দিয়েছেন কলেজের স্যারেরা। এইচএসসি পরীক্ষার পর কলেজের স্যারেরা আমাকে কুমিল্লায় আমার এক ম্যাডামের বাসায় রেখে মেডিক্যালের কোচিং করিয়েছেন। স্যারেরা আমার জন্য এতোটা না করলে আমি ডাক্তারি পড়ায় চান্স পেতাম না। স্যারদের সহায়তা চান্স পেয়েছি কিন্তু এখন আমি কিভাবে ভর্তি হবো?’

হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ আহমেদ জানান, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী সময়ের জন্য মেয়েটির অনেক টাকার দরকার। আমরা কলেজ ফান্ড ও শিক্ষকের ফান্ড থেকে যেটুকু পারি সহায়তা করবো হয়তো; এটা তার পড়ার জন্য পর্যাপ্ত না। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মেয়েটির পড়ালেখায় সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসলে হয়তো একটা সময় দেশের মানুষের সেবার জীবন উৎসর্গ করতে পারবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা