kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নিরপরাধ বাবলু শেখের মুক্তি, দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নয়?

নাটোর প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিরপরাধ বাবলু শেখের মুক্তি, দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নয়?

মামলায় অভিযুক্ত না হয়েও পুলিশ আর আইনজীবীর ভুলে আসামি হয়ে দুই মাস কারাভোগ করাসহ ১৮ বছর পরে আদালতের নির্দেশে মামলা থেকে মুক্তি পেলেন বাবলু শেখ। একই সাথে তৎকালীন মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তা ও ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে নির্দেশ ও বাবলু শেখকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।  

নাটোর জজ কোর্টের পিপি সিরাজুল ইসলাম ও আদালতের নথিপত্র ও বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল নাটোর সদর উপজেলার গাঙ্গইল গ্রামে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাজী আবদুল মালেক বাদী হয়ে শ্রী বাবুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় ১৮/০৪/২০০১ তারিখে একটি মামলা দায়ের করেন। এদের মধ্যে সিংড়া উপজেলার আচল কোট গ্রামের শ্রীদেব দাসের ছেলে শ্রী বাবুকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। 

তৎকালীন নাটোর সদর থানার এসআই মমিনুল ইসলাম শ্রী বাবুকে অভিযুক্ত করে ১৫/০৫/২০০১ তারিখে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর পুনরায় শ্রী বাবুকে অভিযুক্ত করে সদর থানার এসআই হেলেনা পারভীন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামি বাবুকে গ্রেপ্তার না করে ইয়াকুব আলীর ছেলে বাবলু শেখকে ২০০২ সালের ৭ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এই ভুলের বিষয়টি আদালতকে অবহিত না করে ছয় দিন পর ১৩ নভেম্বর আসামির আইনজীবী বাবু পরিচয়েই বাবলু শেখের জামিন করান। পরে ওই পরিচয়েই বাবলু শেখের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামি পরীক্ষা করেন। যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৬ সালের ২৩ জুন মুখ্য বিচারিক হাকিম মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী আসামি বাবুর বিরুদ্ধে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। ওই দিন কাঠগড়া থেকে বাবলু শেখকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি ১৬/০৮/১৬ তারিখে আপিলের মাধ্যমে জামিনে বের হন। এ বিষয়ে নাটোর দায়রা আদালতে আপিল করা হলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিকের আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য প্রেরিত হয়। 

মামরার সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক বাবলু শেখকে মামলা থেকে মুক্তির নির্দেশ দেন। একই সাথে মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোমিনুল ইসলামও এসআই হেলেনা পরভীনের সঠিকভাবে তদন্ত না করার অপরাধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের আইজিপিকে নির্দেশ প্রদান করেন। পর্যবেক্ষণে মামলার ফরোয়ার্ডিং কর্মকর্তা তৎকালীন নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা প্রমাণিত হয়। মামলায় আরো বলা হয়, বাবলু শেখের সাজা ভোগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সঠিকবাবে দায়িত্ব পালন করেননি। এ বিষয়ে সঠিক দায়িত্ব পালনের জন্য অত্র রায়ের কপি বার কাউন্সিলের সভাপতি-সেক্রেটারি বরাবর প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হলো।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা