kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

১০ বছর ধরে টয়লেটের পাশে শিকলবন্দি আমির, মুক্ত করলেন ইউএনও

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:০২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



১০ বছর ধরে টয়লেটের পাশে শিকলবন্দি আমির, মুক্ত করলেন ইউএনও

নাটোরের গুরুদাসপুরে আমির আলী সুপার মার্কেটের মালিক আমির আলীকে ১০ বছর ধরে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই টয়লেটের পাশে নোংরা ঘরে শিকলবন্দি করে রেখেছিলেন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান। অনেক সম্পদ থাকার পরও শুধু মানসিক ভারসাম্যহীন বলে আমিরকে তার বাড়িতেই শিকলবন্দি রাখা হয়। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। 

আমিরের স্ত্রী মনোয়ারা ও ছেলে মঞ্জু জানান, তাকে ১৪ বছর আগে পাবনার মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু তার চিকিৎসার উন্নতি হয়নি। তাই তাকে শিকলবন্দি করে রাখা হয়। তারপর আর চিকিৎসা করানো হয়নি।

অস্বাস্থ্যকর কুঁড়েঘরে শিকলবন্দি করে রাখা হয় আমিরকে। সেই ঘরে বৃষ্টি হলেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমে। শুধু তাই নয়, তার ঘুমানোর জায়গার পাশে টয়লেট। ভাঙা কুঁড়েঘরে টয়লেট, গোসল ও খাবারসহ পোকামাকড়ের কামড় খেয়ে ১০ বছর কাটিয়েছেন তিনি। অবশেষে বুধবার গভীর রাতে ইউএনও মো. তমাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে আমিরকে (৬০) শিকলমুক্ত করেন এবং তার বাড়িতেই একটি ভালো ঘরে থাকার ব্যবস্থা করেন।

ইউএনও তমাল হোসেন জানান, আমিরকে নোংরা ঘরে বন্দী রাখার জন্য ভুল শিকার করেছেন স্ত্রী সন্তানেরা। পরবর্তীতে আমির আলীর ওপর অমানবিক আচরণ করলে পরিবারের দোষী সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা