kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মাটি বাণিজ্য : ঝুঁকিতে বাঁধ ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্প

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাটি বাণিজ্য : ঝুঁকিতে বাঁধ ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্প

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যুমনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকার চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করেছে স্থানীয় ৩ ব্যবসায়ী। ফলে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রষ বাঁধের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভান্ডারবাড়ি গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এখানে নদীর ভাঙন ঠেকাতে পারলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষা হবে। এ কারণে ২ বছর আগে ভান্ডারবাড়ি চেয়ারম্যান বাড়ির সামনে ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্য ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। 

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, ভান্ডারবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী এনামুল হক, জহুরুল ইসলাম ও নুরন্নবী যমুনার ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের অতি নিকট থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অবাধে চরের মাটি কেটে ট্রাকযোগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মাটি কাটার ফলে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকায় গভীর গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে মাটি কাটার বিরূপ প্রভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

ভান্ডারবাড়ি গ্রামের মোকছেদ আলী, জাহাঙ্গীর আলম ও এলাহী বক্সসহ অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম। চর থেকে মাটি কেটে গর্ত করছে। এখন এর কোনো বিরূপ প্রভাব বোঝা যাবে না। তবে, বর্ষা মৌসুমে এই চর পানিতে তলিয়ে যাবে। নদীতে প্রবল বেগে স্রোত বইবে। তখন মাটি কাটার এই গর্তে পানি ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প নদীতে বিলীন হবে। তীর সংরক্ষণ প্রকল্প রক্ষা না হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও টিকবে না। 

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে সব কিছু হারিয়ে নিঃশ্ব হয়েছি। উপার্জনের কোনো পথ নেই। প্রশাসন চর থেকে মাটি না কাটার জন্য বলেছেন। তারপরও জীবিকার তাগিদে চরের নিজস্ব জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছি। এতে নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প কিংবা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোনো ক্ষতি হবে না। 

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বলেন, যমুনা নদীর চর থেকে এ ভাবে মাটি কেটে নিলে অবশ্যই ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ক্ষতি হবে। তবে এ বিষয়টি কেউ আমাকে অবগত করেনি। তারপরও খোঁজখবর নিয়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা