kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইভটিজিং এর প্রতিবাদ : বামনায় কিশোর গ্যাং কোপাল মহেন্দ্রচালককে

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইভটিজিং এর প্রতিবাদ : বামনায় কিশোর গ্যাং কোপাল মহেন্দ্রচালককে

বরগুনার বামনা উপজেলার পূর্ব বলইবুনিয়া গ্রামে ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় মহেন্দ্রচালককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে ৭ সদস্যের কিশোর গ্যাং গ্রুপ। গুরুতর আহত ওই চালক পূর্ব বলইবুনিয়া গ্রামের আ. শুকুর হাওলাদারের ছেলে মো. এমাদুল হক (৩২)। গতকাল বুধবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এমাদুল হকের স্ত্রী মর্জিনা বেগম এর কোচিং সেন্টারের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় বামনা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 

ওই কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা হলো, পশ্চিম বলইবুনিয়া গ্রামের সোহরাফ হোসেন এর ছেলে মো. হাসিব (২১), মো. বাবুল হোসেন এর ছেলে সোহেল (১৭), মো. আফজাল এর ছেলে মিলন (১৮), মো. রফিক এর ছেলে মো. আমিনুল (১৭), মৃত এমদাদ আলীর ছেলে রফিক (২০), মো. বাকোয়ালীর ছেলে সোহরাফ (১৮) ও এমদাদ আলীর ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (১৬)। 

আহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত এমাদুলের স্ত্রী মর্জিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ায়। তার কোচিং সেন্টারের আশপাশে প্রতিদিন সংঘবদ্ধ একটি বখাটের দল আড্ডায় মেতে থাকে। এরা সেখানে অবস্থান করে ওই ছাত্রীদের বিভিন্ন সময়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বখাটে কিশোরদের উত্ত্যক্তের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি প্রথমে ঘটনাটি তার স্বামী এমাদুলকে জানান। গত বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ওই বখাটেরা কোচিং সেন্টারের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে থাকে ও কয়েকজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে। এ বিষয়টি তাৎক্ষণিক মর্জিনা বেগম তার স্বামীকে জানালে তিনি এসে ওই বখাটেদের বাধা প্রদান করেন। এ সময় ওই বখাটেরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এ সময় মো. হাসিব নামে এক বখাটে এমাদুলকে ধারালো দা দিয়ে কোপাতে থাকে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা প্রদান করলে মো. হাইয়ুম নামে একজন এলাকাবাসীকেও বখাটেরা পিটিয়ে আহত করে। পরে ওই বখাটেরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত মহেন্দ্রচালক এমাদুলকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ওই বখাটেদের বিরুদ্ধে আহত এমাদুলের পরিবারের পক্ষে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আগত এমাদুলে স্ত্রী মর্জিনা বেগম বলেন, অনেক দিন ধরে এই কিশোর গ্যাং গ্রুপ আমার ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমি একজন মেয়েমানুষ হওয়ায় এতদিন বিষয়টি কাউকে জানাইনি। তবে এদের অত্যাচার বর্তমানে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়ে আমার স্বামীকে বিষয়টি অবহিত করি। প্রতিবাদ করায় এই বখাটেরা আমার স্বামীকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে তাকে কুপিয়ে আহত করে। আমি এই গ্যাং এর বিচার চাই। 

বামনা থানার ওসি এস এম মাসুদুজ্জামান বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়ের করা হলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা