kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বন্দরনগরে গণপরিবহন ব্যবস্থায় সীমাহীন নৈরাজ্য

মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও প্রশাসন শুদ্ধ না হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্দরনগরে গণপরিবহন ব্যবস্থায় সীমাহীন নৈরাজ্য

চট্টগ্রাম নগরে গণপরিবহন ব্যবস্থায় সীমাহীন বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য চলছে। মালিক সংগঠনগুলো যে যেভাবে পারছে সেভাবে রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছে। সেই সঙ্গে নিজেদের ইচ্ছামাফিক রুটে গাড়ি চালাচ্ছে। যেসব রুট লাভজনক সেখানে নির্ধারিত গাড়ির চেয়ে অতিরিক্ত গণপরিবহন চলাচল করছে। এখন বেশির ভাগ রুটেই চরম বিশৃঙ্খলার কারণে রাত-দিন সমানে যানজট লেগে থাকছে। 

পরিবহন মালিক সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, বন্দরনগরের গণপরিবহনের শৃঙ্খলা অনেকটাই মুখ ও কাগজপত্রে সীমাবদ্ধ। প্রথমেই পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও পুলিশ শুদ্ধ না হলে নানা উদ্যোগ নিলেও কিছুতেই সড়কে নৈরাজ্য ও শৃঙ্খলা ফিরবে না।

সড়কে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়ানো ও যাত্রী ওঠানামা, ওভারটেকিং, উল্টোপথে গাড়ি চলাচল, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, গাড়ি চলাচলরত অবস্থায় যাত্রী ওঠানামা, ফিটনেস, রুট পারমিট ও লাইসেন্সবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চলাচলসহ বিভিন্ন অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কারণে সড়কে আবারও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ৩নং রুটের নিউ মার্কেট থেকে ফতেয়াবাদগামী মারুফ এন্টারপ্রাইজের একটি মিনিবাস মাঝপথে নগরের অক্সিজেন মোড়ে পুলিশ ক্যাম্পের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়েছে। এ সময় এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফতেয়াবাদ যাওয়ার কথা বলে যাত্রী তুলেছিল। যেতে আরো ছয়-সাত কিলোমিটার বাকি আছে। কিন্তু এখানে নামিয়ে দিচ্ছে।’ মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই গাড়ির চালক বলেন, ‘কাজ আছে। এখন গাড়ি চালাব না।’ 

নগরের মুরাদপুর থেকে হাটহাজারীগামী স্পেশাল সার্ভিসের বাস-মিনিবাস অবাধে চলছে। বিরতিহীনের নামে এসব গাড়িতে যাত্রীপ্রতি ৩০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। দেখা যায়, সড়কের বেশির ভাগ অংশজুড়ে রাখা এসব গাড়ির কারণে সেখানে যানজট দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করে মুরাদপুর এলাকার কয়েকজন যাত্রী ও স্থানীয় লোকজন জানান, যে যার মতো করে বাস-মিনিবাস মুরাদপুর থেকে উত্তরের দিকে চালাচ্ছে। এখানে বিভিন্ন যানবাহন থেকে নামে-বেনামে দেদার চাঁদাবাজি চলছে।

নগরের নিউ মার্কেট এলাকাকে যানজটমুক্ত করতে ৩নং রুটের গণপরিবহনগুলো পাশের দুটি এলাকা (সিনেমা প্যালেস এবং পুরনো রেলস্টেশন) থেকে ছাড়ার নির্দেশনা নগর আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি) দিলেও তা মানা হচ্ছে না। নিউ মার্কেট ও কোতোয়ালি এলাকা থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন অটোটেম্পো কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকা পর্যন্ত চলাচল করছে। ৪, ৭ ও ১১ নম্বর রুটে বাস-মিনিবাস ভাটিয়ারী পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও তা না মেনেই মালিক সংগঠনগুলোর ইচ্ছামাফিক কর্নেলহাট পর্যন্ত যাচ্ছে। সব গাড়ি ভাটিয়ারী না যাওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

নগর সড়কের পথে পথে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল গতকাল বলেন, ‘নগর গণপরিবহনে নানামুখী সংকট রয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে শুদ্ধ হতে হবে। নৈরাজ্য বিশৃঙ্খলার জন্য এককভাবে কাউকে দায়ী করা যাবে না। সমস্যা সমাধানে সবাইকে নিয়ে এক সঙ্গে কোনো বৈঠকও হচ্ছে না। কম-বেশি সব রুটেই বিশৃঙ্খলা চলছে। সড়কে কারা চাঁদাবাজি করছে তা সবাই জানে।

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা আনয়নে মেট্রো আরটিসির সিদ্ধান্ত পর্যন্ত কিছু মালিক সমিতির নেতারা মানছেন না। নিজেদের ইচ্ছামাফিক রুটে গাড়ি নামালে সড়কে বিশৃঙ্খলা তো হবেই। বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন সেক্টর ঘিরে রাজনৈতিক ব্যানারে চাঁদাবাজি চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা