kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নোয়াখালীতে কিশোর মিলন হত্যাকাণ্ড

এসআই আকরাম কারাগারে

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এসআই আকরাম কারাগারে

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ডাকাত সাজিয়ে কিশোর শামছুদ্দিন মিলনকে পিটিয়ে হত্যা মামলার আসামি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আকরাম শেখকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম নবনীতা গুহ তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার মামলার ১০ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাঁদেরও জেলহাজতে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত ৯ আসামি পলাতক রয়েছেন। আটজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখন জামিনে আছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী কল্পনা রানী দাস জানান, গতকাল দুপুরে মামলার আসামি এসআই আকরাম শেখ জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে বিচারক নবনীতা গুহ আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে এসআই আকরামকে নোয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২৮ জনকে আসামি করে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক ২১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

২০১১ সালের ২৭ জুলাই নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাঁকড়া ইউনিয়নে ডাকাত সাজিয়ে কিশোর মিলনকে (১৬) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেয়। কিন্তু কোম্পানীগঞ্জের তত্কালীন এসআই মো. আকরাম শেখের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মিলনকে থানায় না নিয়ে জনতার হাতে ছেড়ে দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতে পিটিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। কয়েক দিন পর এই হত্যাকাণ্ডের খবর গণমাধ্যমে উঠে আসে। ওই বছরের ৩ আগস্ট মিলনের মা কোহিনুর বেগম আদালতে একটি মামলা করেন। 

২০১৫ সালের জুলাই মাসে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নোয়াখালী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি আতাউর রহমান ভূঁইয়া আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল) দাখিল করেন।

পরে বাদীর নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে নির্দেশ দেন। গত ৯ মার্চ তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মদ ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আসামিদের মধ্যে চর কাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের তত্কালীন সদস্য জামাল উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী মিজানুর রহমান মানিক রয়েছেন। এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাঁকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগপত্রেও কোনো পুলিশ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানি শেষে মামলার নথি পর্যালোচনা করে আদালত সাক্ষীর তালিকায় থাকা পুলিশের এসআই আকরাম শেখকে আসামি করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা