kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

লোহাগড়ায় শিশু হত্যায় সন্দেহ স্বজন ঘিরে

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোহাগড়ায় শিশু হত্যায় সন্দেহ স্বজন ঘিরে

নড়াইলের লোহাগড়ায় খুনের শিকার হয়েছে  প্রথম শ্রেণির ছাত্র রমজান শেখ (৭)। বুধবার বিকেলে সিংগা গ্রামে বাড়ির পাশে বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। এ সময় শিশুর পরনে ছিল স্কুলের পোশাক। তাকে হত্যার ব্যাপারে সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে পিতাসহ স্বজনদের ঘিরে। পুলিশ রমজানের মামা ইউসুফ শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

স্বজনরা জানান, রমজান সিংগার ইলিয়াস শেখের সন্তান। সে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সে স্কুলে যায়। প্রতিদিন ক্লাস শেষে ১২ টার মধ্যে সে বাড়ি ফিরে আসে।  বুধবার স্কুল থেকে বেরিয়ে সে বাড়ি না ফেরায় সকলে চিন্তিত হয়ে পড়েন। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বেলা চারটার দিকে তার লাশ পাওয়া যায় বাড়ির পাশে বাগানে।  সাদা ও নেভী ব্লু  রংয়ের স্কুল ড্রেস পরা রমজানের শরীরে বেশ কিছু অআঘাতের চিহ্ন মেলে। পুলিশ সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে।

শিশুর খালা লাকি বেগম অভিযোগ করেন, 'রমজানকে তার পিতা ও সৎ মা হত্যা করে বাগানে ফেলে রেখেছেন।'

লোহাগড়া থানার এএস আই সাইফুল বলেন, 'লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।'

ডিউটি অফিসার এসআই তপন বলেন, ' এখনই হত্যাকারীর বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রমজানের মামা ইউসুফ শেখকে থানায় আনা হয়েছে। '

স্বজনদের দেয়া তথ্য অনুসারে, ইলিয়াস শেখের প্রথম স্ত্রী তহমিনা বেগম। দ্বিতীয় স্ত্রী মাবিয়া খাতুন। রমজানের মা মাবিয়া মারা গেছেন চার বছর আগে। দুই স্ত্রী সংসার নিয়ে শুরু থেকেই ছিল অশান্তি। এক পর্যায়ে দ্বিতীয় স্ত্রী মাবিয়া লোহাগড়ার  পারিবারিক আদালতে মামলা করেন ইলিয়াসের বিরুদ্ধে। সে মামলার রায়ে মাবিয়া ও তার সন্তানকে প্রতিমাসে খরচ বাবদ মাসে ৫ হাজার টাকা দিতে নির্দেশনা দেন আদালত। প্রতিবছর স্ত্রী-সন্তানের জন্য দেয়া টাকার পরিমাণ বাড়বে বলেও নির্দেশনা ছিল।

আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মাবিয়ার মৃত্য হয়। সেক্ষেত্রে শিশু রমজানের জন্য নানা ২/১ মাসের টাকা পেয়েছেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর পর ইলিয়াস শেখ টাকা দেয়া বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।  আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক শিশু রমজানের পাওনা বকেয়া রয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। এ টাকা নিয়ে বিবাদের মধ্যেই রমজানের মৃত্যু নানা প্রশ্ন তৈরী করেছে।

ইলিয়াসকে শায়েস্তা করতে স্বজনদের মধ্যে কেউ শিশু রমজানকে হত্যা করতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। অন্যদিকে রমজানের নানা বাড়ির লোকজন দুষছেন ইলিয়াস ও তার প্রথম স্ত্রীকে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে খুনি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়নি। তবে সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে স্বজনদের মাঝে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা