kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সোনাগাজীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত সর্দার ইকবাল নিহত, অস্ত্র উদ্ধার

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনাগাজীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত সর্দার ইকবাল নিহত, অস্ত্র উদ্ধার

ফেনীর সোনাগাজীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশ ও পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাথে বন্দুকযুদ্ধে আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার ইকবাল হোসেন (৩৫) ওরফে ইকবাল ডাকাত নিহত ও তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাড়াইতকান্দি গ্রামের পাঠান বাড়ি সংলগ্ন আজম খান মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি একনলা বন্দুক ও তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে। নিহত ডাকাত সর্দার ইকবাল হোসেন সোনাগাজী উপজেলার পূর্ব ছাড়াইতকান্দি গ্রামের মৃত আবদুর রবের পুত্র। তার বিরুদ্ধে ফেনী জেলার ৫টি থানা ও চট্টগ্রামের মীরসরাই থানায় মোট ৩৭ টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গোপন সংবাদে জানতে পারে ছাড়াইতকান্দি গ্রামে একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় ফেনীর ডিবি পুলিশ ও সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের একটি দল ওই গ্রামে যৌথ অভিযান চালায়। পুলিশের আভিযানিক দল ছাড়াইতকান্দি গ্রামের পাঠান বাড়ি সংলগ্ন আজম খান মার্কেটের সামনে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে । এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলি করলে ইকবাল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তার সহযোগী ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক ও তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে। ইকবালকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ২৫ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. সিএস করিমের ছাড়াইতকান্দি গ্রামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় ইকবালের নাম উঠে আসে। গ্রেপ্তারকৃত চার ডাকাত তার নেতৃত্বে ডাকাতি করেছে মর্মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এরপর থেকে ইকবালকে গ্রেপ্তারের জন্য হন্য হয়ে খুঁজতে থাকে পুলিশ।

পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইকবাল পঞ্চম। তিনি ফেনী জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিমের ছোট ভাই। ছয় মাস আগে ৪১ মাস সাজা খেটে জেলখানা থেকে মুক্তি পেয়েছিল ইকবাল। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে সে ডাকাতদলের সদস্যদের সংগঠিত করে ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছে।

পুলিশের দাবি ইকবাল জেলখানায় থেকেও তার শীষ্যদের দিয়ে ডাকাতি করাতো। তার বিরুদ্ধে  ডাকাতি ও হত্যাসহ ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর আগে একাধিক ঘটনায় তার বাড়ি থেকে ডাকাতির মালামাল উদ্ধার করা হয়েছিল।

ফেনীর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) রঞ্জিত বডুয়া ও সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঈন উদ্দিন আহমেদ বন্দুক যুদ্ধে  ইকবাল ডাকাতের মৃত্যু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা