kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথ

ফেরি চলাচল শুক্রবার নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০৪:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেরি চলাচল শুক্রবার নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে

নাব্য সংকটের কারণে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া থেকে শরীয়তপুরের কাঁঠালবাড়ী পর্যন্ত নৌপথে গতকাল মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। শিমুলিয়া ঘাটে পারের অপেক্ষায় আটকে আছে দুই শতাধিক ট্রাক। ঘাটে কোনো যাত্রীবাহী বাস বা প্রাইভেট কার দেখা যায়নি।

গত রবিবার দুপুর ২টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ১৭টি ফেরি চলাচল করে। খননকাজ শেষ হওয়া সাপেক্ষে আগামী শুক্রবার নাগাদ লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের চ্যানেলটি খুলে দেওয়া হতে পারে। তাই শুক্রবার পর্যন্ত ভোগান্তি থাকছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডাব্লিউটিসি) জানায়, রোরো, ডাম্প, কে টাইপ ও মাঝারি আকারের ফেরিগুলো শিমুলিয়া ও কাঁঠালবাড়ী ঘাটে নোঙর করে আছে। এর মধ্যে কে টাইপ ফেরি কপোতী ও ক্যামিলিয়া চাঁদপুরের উদ্দেশে চলে গেছে। তবে লাশবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স, গুরুত্বপূর্ণ প্রাইভেট কার বহনের জন্য কর্ণফুলী, ফরিদপুর, কুমিল্লাসহ তিনটি ছোট আকারের ফেরি চালু রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

বিআইডাব্লিউটিসির কর্মকর্তা এ কে এম শাহজাহান জানান, জরুরি যানবাহনের জন্য ছোট তিনটি ফেরি চলাচল করছে। আগামী শুক্রবারে মধ্যে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের সোজা চ্যানেলটি চালু হবে। আর এ চ্যানেলটি চালু হলে এ নৌ রুটে ফেরি চলাচলে কম সময় লাগবে। তখন ঘাটের সবগুলো ফেরিই চলাচল করতে পারবে। এ নৌ রুটের ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলেও লঞ্চ ও সি বোট চলাচল করছে।

তবে নাব্য সংকটের কারণে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোকে সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সতকর্তার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে বলে জানান বিআইডাব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক শাহদাৎ হোসেন।

শিমুলিয়াঘাট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক মাস ধরে পদ্মায় নাব্য সংকট ও স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এ কারণে প্রায় বন্ধ রাখতে হতো অর্ধেকেরও বেশি ফেরি। গত রবিবার সকাল থেকে নৌ চ্যানেলে নাব্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। একই সঙ্গে নদীতে তীব্র স্রোত রয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম জানান, একটি ফেরি চলতে কমপক্ষে সাত ফুট পানি দরকার। সেখানে পানি আছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ফুট। তিনি বলেন, লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় গত কোরবানির ঈদের আগে ওই চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। লৌহজংয়ের সোজা চ্যানেল দিয়েই চলছিল ফেরি। কিন্তু এ চ্যানেলেও নাব্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে ফেরি চালাতে গেলেই আটকে যাচ্ছিল। তাই ওই দিন দুপুর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. হিলাল উদ্দিন বলেন, ঘাটে প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় আছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এগুলোর মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে ঘাটে আটকে আছে এমন অনেক ট্রাকও রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ঘাটে দোকানপাট না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন আটকে পড়া যানবাহন চালকরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা