kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাউজানে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদরাসার সভাপতির দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকের তদন্ত

জাহেদুল আলম, রাউজান   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাউজানে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদরাসার সভাপতির দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকের তদন্ত

রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর মোহাম্মদীয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাছান রেজার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত্সহ বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগ করেছেন মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি এস এম ইউছুপ। এ নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসার সভাপতি-অধ্যক্ষ দ্বন্দ্ব ও পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থানকারীদের বিরোধে এলাকায় তোলপাড় চলছে। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেন মাওলানা হাছান রেজা। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উরকিরচর মোহাম্মদীয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদরাসা ও এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ এস এম ইউছুপ মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সম্পাদক মাওলানা হাছান রেজার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের চট্টগ্রামের উপপরিচালকের দপ্তরে ভুয়া শিক্ষকের নামে সরকারের প্রায় চার লাখ ১০ হাজার ৫৩৪ টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগ করেন। 

একই অভিযোগে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ দেখিয়ে সরকারি কোষাগারের টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে এতিমখানা ও মাদরাসার ফান্ডের টাকা তছরুপ, মাদরাসার ভেতরে অবৈধভাবে কেজি স্কুল পরিচালনা, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ঘন ঘন বিদেশ সফর, এতিমখানার মালিকানাধীন জায়গায় ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনে মহিষের খামার গড়ে তোলা, এতিমখানার নামে ওয়াজ মহাফিল থেকে মানুষের দান আদায় করে সম্পূর্ণ টাকা ফান্ডে জমা না করা, মাদরাসা ভবনের একটি কক্ষ কাজী অফিসের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নিজের ভাইকে দেওয়াসহ আরো নানা অনিয়মের অভিযোগ। তবে দুদক এত সব অভিযোগের মধ্যে শুধু চার লাখ ১০ হাজার ৫৩৪ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তে নেমেছে।

এ প্রসঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার রাতে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদ তালুকদার বলেন, ‘উভয় পক্ষের কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। আরো কিছু কাগজপত্রের দরকার হবে। তবে আমি ঢাকায় ট্রেনিংয়ে থাকায় সব কিছু এখনো ভালোভাবে দেখতে পারিনি।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তার প্রতিটিই অসত্য। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়ায়েজিন আর সুবক্তা হিসেবে আমার অনেক সুনাম রয়েছে। তা ছাড়া মাদরাসাটি আমার বাবা বিশিষ্ট মাওলানা আবদুল মালেক প্রতিষ্ঠিত। সে হিসেবে আমি উক্ত মাদরাসার খেতমত করছি। প্রতিষ্ঠাকালীন আমার বাবার সঙ্গে যাঁরা বিরোধিতা করেছেন, তাঁরাই মাদরাসাকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে পুনরায় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাদরাসা কমিটির অনুমোদন নিয়ে সব কাজ করা হয়েছে। অনিয়ম হলে শুধু দায়ী আমি হব কেন, এর দায় নিতে হবে সভাপতিকেও।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা