kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রামেও অভিযানের প্রস্তুতি

অনলাইন জুয়ার কারবারি টেন্ডারবাজ চাঁদাবাজের তালিকা করেছে র‍্যাব

এস এম রানা, চট্টগ্রাম    

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনলাইন জুয়ার কারবারি টেন্ডারবাজ চাঁদাবাজের তালিকা করেছে র‍্যাব

রাজধানী ঢাকায় ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে এবার অভিযান হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। এই বন্দরনগরীতে সরাসরি ক্যাসিনো না থাকলেও অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনায় রয়েছেন ছয়জন। তাঁরা সরকারদলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁদের দুজন ‘চট্টগ্রামের অনলাইন ক্যাসিনো ডন’। বাকি চারজন তাঁদের সহযোগী।  

এই ছয়জন অনলাইন ক্যাসিনো কারবারির পাশাপাশি নজর রাখা হচ্ছে টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজদের দিকে। র‍্যাব-৭-এর তৈরি করা একটি তালিকায় স্থান পেয়েছে ৩০ থেকে ৩৬ জনের নাম। যাঁদের ছয়জন অনলাইন ক্যাসিনো কারবারি, বাকিরা টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজি করে গত এক দশকের কম সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। 

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপকালে অনলাইন ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির বিষয়টির কথা জানিয়েছেন। কিন্তু তালিকাভুক্তদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ঢাকায় ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃতরা জবানবন্দিতে যাঁদের নাম প্রকাশ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্তত ছয়জনের বাড়ি চট্টগ্রামে। এ ছাড়া টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি করে যাঁরা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে র্যাব অভিযানে নামবে। সমাজকে দূষণমুক্ত করে একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে এই ধরনের অভিযান অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

একই বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আকতার কবীর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক শ্রেণির বিশেষ ঠিকাদার যাঁরা রাষ্ট্রীয় ও দলীয় আনুকূল্য পেয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নেন, তাঁদের অনেকেই এখন কোটিপতি। তাঁরা সৎ পথে ব্যবসা করে এত বিত্তের মালিক হননি। এসব ঠিকাদারের সঙ্গে এক শ্রেণির প্রকৌশলী আদাজল পান করেন। ফলে দেশে বালিশকাণ্ড ঘটছে। এই ধরনের টেন্ডারবাজ-চাঁদাবাজদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।’ 

র‍্যাবের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া সেলিম প্রধানের ছয় সহযোগী চট্টগ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের দুজনকে ‘ডন’ বলা হচ্ছে। এই ছয়জন এই সময়ে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন কি না, তা জানা যায়নি। তালিকার বাকি টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজদের নাম-ঠিকানার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় এবং মামলার সংখ্যাসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

তালিকায় অনলাইন ক্যাসিনো কারবারি সেলিম প্রধানের সহযোগী ছাড়াও আছেন ঢাকার টেন্ডারবাজ জি কে শামীম ও খালেদ চক্রের সহযোগীদের নাম, যাঁরা জি কে শামীমের চট্টগ্রাম-বান্দরবানভিত্তিক একাধিক প্রকল্পে যুক্ত আছেন কিংবা এ চক্রের সঙ্গে মিলেমিশে টেন্ডারবাজি করেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরে ইদানীং টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সরকারি টেন্ডার কার্যক্রম কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করেন টেন্ডারবাজরা। আর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত ভবনগুলো নির্মাণের সময় চাঁদাবাজদের চাহিদামতো চাঁদা না দিয়ে নির্মাণকাজ সম্ভব হয় না বলে জানান ভবন মালিকরা। 

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট আছে দলীয় পরিচয়ধারী ও এলাকাভিত্তিক। সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি হচ্ছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা থানার পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন না ভয়ে। ফলে অভিযোগ না পাওয়ায় পুলিশ সরকারদলীয় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জোর অভিযান চালাতে পারে না। 

প্রত্যেক কর্মকর্তাই আশা করেন, কর্মস্থলে নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকুক। সরকারদলীয় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া অভিযান চালাতে গেলে প্রায় সময় তাঁদের বিপাকে পড়তে হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা