kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফতুল্লায় শিশুপুত্রকে নৃশংসভাবে হত্যা করলো মা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফতুল্লায় শিশুপুত্রকে নৃশংসভাবে হত্যা করলো মা

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাবা-চাচা মিলে শিশু তুহিনকে জবাই করে হত্যার খবরে যখন দেশবাসী হতবাক তখনই নারয়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিশুপুত্রকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠলো মায়ের বিরুদ্ধে। আশফাক জামান জাহিদ নামের আড়াই বছরের এক শিশুটিকে চারতলা বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে শিশুটির মা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই মা মানসিক রোগী বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা ইউএনবি জানায়, গত সোমবার রাতে ফতুল্লার পাগলা পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকার আমান উল্লাহ প্রধানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা বিষয়টি ধামা-চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে শিশুটির মা রোখসানা আক্তারকে (২৮) গ্রেপ্তার করে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, ফতুল্লার পাগলা পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকার আমান উল্লাহ প্রধানের খন্দকার নুরুজ্জামান মারুফ তাঁর স্ত্রী রোকসানা আক্তার, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। ওই বাড়িতেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

ওসি বলেন, ওই রাতে চার তলা বাড়ির ছাদ থেকে শিশু জাহিদকে তারা মা রোকসানা আক্তার ফেলে দেয়। পরে শিশুটির বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির মৃত্যুর খবর জানা যায়।

গত রবিবার রাতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শিশু তুহিনকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে ঘাতকরা। সোমবার ভোরে গাছের সঙ্গে ঝুলানো অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তুহিনের পেটে দুটি ধারালো ছুরি বিদ্ধ ছিল। তার পুরো শরীর রক্তাক্ত, কান ও লিঙ্গ কর্তন অবস্থায় ছিল। তুহিন ওই গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ৫ বছরের শিশু তুহিনকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। বাবা ও চাচার সম্মিলিত পরিকল্পনাতেই খুন করা হয় তুহিনকে। শিশুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তার বাবা ও চাচা। 

মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিশু তুহিনকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাবা কোলে করে বাইরে নিয়ে যায়। এবং বাচ্চাটাকে যখন জবাই দেওয়া হয় তখন পর্যন্ত মনে হয় বাচ্চাটা কোলেই ছিল। আসলে সন্তান যদি তার বাবার কোলে থাকে এর চাইতে তো আর নিরাপদ স্থান নাই। আর বাচ্চাটা তো বুঝতেও পারে নাই। সে কোলেই ছিল হঠাৎ করে বাচ্চার বাবা, চাচা অন্যরা মিলে জবাই করে।’

মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাচ্চাটাকে মেরে তার কান কাটা হয়েছে, গলা কাটা হয়েছে, তার লিঙ্গ কাটা হয়েছে। তা সত্যি খুব নির্মম, তার পেটের ভেতরে দুটি ছুরি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, ওই ছুরিতে প্রতিপক্ষের নাম লেখা ছিল। ছুরি বিদ্ধ অবস্থায় শিশুটির মরদেহ গাছে ঝুলানো ছিল।’

মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের কাছে শিশু তুহিন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বাবা ও চাচা। হত্যার ঘটনায় সুনামগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তুহিনের চাচা নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার। আদালতে হত্যার ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেন তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান আরো বলেন, রবিবার রাত আড়াইটার দিকে বাবা আব্দুল বাছির তুহিনকে কোলে করে ঘরের বাইরে নিয়ে যান। পরে চাচা নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার তুহিনকে খুন করেন। পরে তুহিনের কান ও লিঙ্গ কেটে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনা তুহিনের বাবার সহযোগিতায় হয়েছে। এ ঘটনায় তুহিনের বাবাও জড়িত। তার সামনেই শিশু তুহিনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় তুহিনের বাবাসহ থানায় নিয়ে পাঁচজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই তুহিনকে খুন করা হয় বলে পুলিশকে জানান বাবা ও চাচা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা