kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হাসপাতালে নামহীন শিশুটি জানে না কে তার মা-বাবা

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাসপাতালে নামহীন শিশুটি জানে না কে তার মা-বাবা

মায়ের পরম মমতা পাচ্ছে শিশুটি। তবে পাশে মা নেই। বাবার দায়িত্ব পালন করার মতো লোকেরও অভাব নেই। অথচ পাশে তার বাবা নেই। কেউ জানে না তার বাবা-মা কে। তারা আদৌ আসবেন কি না সেটিও জানা নেই কারো। 

শিশুটির গায়ে নতুন জামা। হাসছে, খেলছে। ফিডারে করে দেওয়া দুধও খাচ্ছে। হাসপাতালে থাকা নামহীন শিশুটি জানে না কিংবা বুঝে না পাশে তার বাবা-মা নেই। তবে সাজানো মায়ের কোলেই কাটছে তার দিন। অনেকেই খোঁজ নিচ্ছে তার। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের নীচতলার প্রসূতি বিভাগে দেখা মিলে শিশুটির। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গিয়ে দেখা যায় বিশেষ পোশাক পড়া নারী তাকে কোলে নিয়ে রেখেছেন। কোহিনূর আক্তার নামে ওই নারী জানালেন, তিনি সেবিকা (নার্স)। বেলা চারটা থেকে কোলে নিয়ে রেখেছেন। শিশুটির জন্য তাদের একজনকে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে এক নারীকে কে বা কারা ফেলে রেখে চলে যান। হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোতাহের হোসেন সেন্টু সন্তানসম্ভাবা ওই নারীকে ভর্তি করান। রাতেই ওই নারী ছেলে সন্তান প্রসব করেন। সোমবার সকালে ওই নারী শিশুটিকে ফেলে চলে যায়। এরপর থেকেই সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আছে শিশুটি।

মোতাহের হোসেন জানান, ওইদিন তার রাত্রীকালীন দায়িত্ব ছিলো। জরুরি বিভাগে কাজ করার সময় নারীর গোঙরানি শুনতে পান। পেছন ফিরে দেখেন এক নারী গড়াগড়ি করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ওই নারীকে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।

মোতাহের হোসেন বলেন, ওই নারীর সঙ্গে কেউ ছিলেন না। কে বা কারা তাকে রেখে গেছেন সেটিও তারা জানতে পারেননি। সাধারাণভাবেই ওই নারী সন্তান প্রসব করেন। রাতেই কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনে এনে দেই। সকালে জানতে পারি ওই নারী সন্তানকে ফেলে চলে গেছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিষয়টি জেনে শিশুটির দেখভালে সব ধরণের ব্যবস্থা নেন। মোতাহের হোসেন জানান, ওই নারী কথা বলতে পারেন না।

হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ সেবিকা স্মৃতি রানী রায় বলেন, শিশুটিকে ফেলে রেখে তার মা চলে গেছে। শিশুটির শারীরিক তেমন কোনো সমস্যা নেই। আমরা শিশুটিকে যথাযথভাবে দেখভাল করছি। এ বিষয়ে আমাদেরকে কঠোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। 

জেলা সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক (সুপারিনটেনডেন্ট) ডা. মো. শওকত হোসেন বলেন, শিশুটি আপাতত আমাদের তত্ত্বাবধানে আছে। সমাজ সেবা কার্যালয় ও থানা পুলিশও এ বিষয়ে খোঁজ রাখছেন। শিশুটিকে কোথায় রাখা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা