kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাহাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে মানবেতর দিনযাপন

হাফিজুর রহমান চয়ন, হাওরাঞ্চল   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাহাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে মানবেতর দিনযাপন

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাহাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো মেরামতের অভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে বসবাসরতরা আরো নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। 

জানা গেছে, সরকারিভাবে ২০০১ সালে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের বাহাম গ্রামে ৭০টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১০ কক্ষ বিশিষ্ট ৭টি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। ওই ঘরগুলোতে ৭০টি ভুক্তভোগী পরিবার বসবাস করে আসলেও দীর্ঘদিন ধরে ওইসব ঘরগুলো মেরামতের অভাবে চালের ও বেড়ার টিন ফুটো হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এরই মধ্যে প্রায় ৩০টি পরিবার ঘর ফেলে রেখে অন্যত্র চলে গেছে। বাকি ৪০টি পরিবার ওই সব ভাঙা ঘরের চালে পলিথিন দিয়ে কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। এ ছাড়াও আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জন্য নির্মিত কমিউনিটি সেন্টারটিও ঝড়ের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৭টি নলকূপ স্থাপন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সবক'টি নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় এখানকার লোকজন বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছে। শুধু তাই নয় তাদের স্যানিটেশন ব্যবস্থারও নেই কোনো উন্নতি। জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যক্রমের কোনা ছোঁয়া পড়েনি ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে। এখানে বসবাসকারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাবে অহরহই ঘটছে বাল্যবিবাহ।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও আট সন্তানের জনক আবু তাহের, ছয় সন্তানের জনক আবাল হোসেন ও আট সন্তানের জনক আলতু মিয়াসহ আরো অনেকেই বলেন, ভাঙা ঘরে বসবাস করতে না পেরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্ধেক বাসিন্দাই অন্যত্র চলে গেছেন। অল্প বৃষ্টি হলেই ঘরের বিছানাসহ আসবাবপত্র ভিজে গেলে আমরা পলিথিন মাথায় দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। এ ছাড়াও এখানে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা আরো বলেন, এখানে বিশুদ্ধ পানি ও মানসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় তাদেরকে খুবই কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেক পরিবারই অন্যত্র চলে গেছে। বাকি পরিবারগুলোও জোড়াতালি দিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তবে ওই সব ঘরগুলো মেরামতের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবারই বলে আসছি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুল তালুকদার বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুরাবস্থার বিষয়টি আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসবাসকারীদের অনেক সমস্যা রয়েছে আমি জানি। তবে ঘর মেরামতের জন্য বরাদ্দ আছে এবং বিষয়ে দ্রুতই ঘরগুলো মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা