kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পায়রা বন্দরে সার্ভিস জেটি, ক্রেনের মাধ্যমে পণ্য খালাস শুরু

জসীম পারভেজ, কলাপাড়া   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৪:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পায়রা বন্দরে সার্ভিস জেটি, ক্রেনের মাধ্যমে পণ্য খালাস শুরু

কলাপাড়া পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম জেটি এবং অত্যাধুনিক মোবাইল হারবার ক্রেনের মাধ্যমে পণ্য ওঠা-নামার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পায়রা বন্দরের টিয়াখালীর আন্ধারমানিক নদীতে ২১ কোটি টাকার ব্যয়ে (৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ২৪ মিটার প্রস্থ) নির্মিত সার্ভিস জেটি এবং ২৯ কোটি টাকা ব্যায়ে জার্মান থেকে ক্রয় করা ৬৪ টন লিফটিং ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক মোবাইল হারবার ক্রেনের মাধ্যমে পায়রা বন্দরের পণ্য খালাসের কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রথম দিনে পায়রা বন্দরের ক্যাপিট্যাল ড্রেজিংয়ে নিয়োজিত বেলজিয়ামভিত্তিক কম্পানি জানডেনুল এর পণ্য খালাসের মাধ্যমে পায়রা বন্দরের জেটি ও ক্রেন সচল হলো। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এস এম ইমতিয়াজ ইসলাম, সুপারিনটেনডেন্ট (লাইটার অ্যান্ড মুরিং), লে. কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান (উপপরিচালক, নিরাপত্তা), মো. সোহেল মীর (উপপরিচালক, নিরাপত্তা) এবং মো. আসাদুল্লা আশি, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৯ নবেম্বর পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ প্রকল্পটিকে ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত করা হয়। সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে ১৯টি কম্পোনেন্টে বিভাজন করা হয়। যেখানে দেশের জিটুজি অর্থায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশিদারত্ব পিপিপি ভিত্তিতে এর বাস্তবায়ন চলছে। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট সীমিত পরিসরে পায়রা বন্দরের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ হতে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে অপারেশনাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পায়রা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন ৩৫টি জাহাজের পণ্র খালাসের মাধ্যমে ১১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। 

পায়রা বন্দরের সুপারিনটেনডেন্ট (লাইট অ্যান্ড মুরিং) এস এম ইমতিয়াজ ইসলাম জানান, দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা। বর্তমানে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অপারেশনাল কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তার ধারাবাহিকতায় পায়রা বন্দরের জেটি এবং ক্রেনের অপারেশন শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে ৩০ টন ক্যাপাসিটির একটি মোবাইল হাইড্রলিক ক্রেন এবং ২৫ টন ক্যাপাসিটির ফর্ক লিফট। ক্রেনটির মাধ্যমে হুক, গ্রাব এবং স্পিডার এই তিন ধরনের অপারেশন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ডিআইএসএফ প্রকল্প, কোল টার্মিনাল প্রকল্প, ফার্স্ট টার্মিনাল প্রকল্প, মাল্পিপারপাস টার্মিনাল এবং বেলজিয়ামভিত্তিক কম্পানি জান ডি নুল এর মাধ্যমে বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান আছে। 

তিনি আরো বলেন, পায়রা বন্দরের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পণ্র আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে পটুয়াখালী, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বাণিজ্যিক প্রসার ঘটবে যার ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে বলে আশা করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা