kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রকৃতির ডাকে বিপত্তি, চালককে রেখে ট্রেন নিয়ে চলে গেলেন সহকারী চালক!

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি    

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকৃতির ডাকে বিপত্তি, চালককে রেখে ট্রেন নিয়ে চলে গেলেন সহকারী চালক!

গত রবিবার সকাল ৮টার দিকের ঘটনা। ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে পাবনা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেন পাবনা এক্সপ্রেস। ঠিক ওই সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ট্রেনের টয়লেটে যান লোকোমাস্টার (এলএম বা ট্রেনচালক) আসলাম উদ্দিন খান। কিন্তু ওই সময় তাঁর মোবাইল ফোনটি টয়লেটের ফোকর দিয়ে নিচে পড়ে যায়। মোবাইল ফোনটি আনতে তিনি ট্রেন থেকে নিচে নামামাত্রই ট্রেন চালাতে শুরু করেন সহকারী চালক (এএলএম) আহসান উদ্দিন। পরে মোবাইল ফোনসেট তুলে বিকল্প রাস্তায় অন্য পরিবহনে গিয়ে এক স্টেশন পর ট্রেনের ইঞ্জিনের হাল ধরেন চালক। এ ঘটনায় ট্রেনটির এলএম, এএলএম ও পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ট্রেনটি রাজশাহী পৌঁছার আগেই এ খবর রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ও ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) অফিসে চলে যায়। সন্ধ্যায় ঘটনার সত্যতা পেয়ে ট্রেনের এলএম, এএলএম ও পরিচালককে প্রত্যাহার করে বিকল্প লোক দিয়ে ট্রেনটি রাজশাহী থেকে পাবনায় ফেরত আনা হয়। পরে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়।

সাময়িকভাবে বরখাস্ত এলএম আসলাম উদ্দিন খান জানান, রাজশাহীতে যাওয়ার উদ্দেশে বাইপাস স্টেশনে ট্রেনের বিরতি দেন। ওই সময় তাঁর পায়খানার বেগ আসে। তিনি সহকারী চালককে বলে টয়লেটে যান। কিন্তু টয়লেটের ফোকর দিয়ে মোবাইল ফোনসেট পড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন তিনি। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে একটি পক্ষ বিষয়টি রং মাখিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও সংবাদকর্মীদের জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে ট্রেনটির পরিচালক (গার্ড) আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রেনটি পাবনা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে বাইপাস স্টেশনে বিরতি দেয়। বিরতি শেষে যথাযথ নিয়মে ট্রেন ছাড়ার জন্য সংকেত দিলে ট্রেন রাজশাহীর দিকে গমন করে। পরে রাজশাহী গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন চালক আসলাম উদ্দিন খান বাইপাস থেকে পরবর্তী স্টেশন আব্দুলপুর পর্যন্ত ট্রেনে অনুপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিয়ম অনুসারে ট্রেনে দুজন চালক থাকেন। কিন্তু মূল চালকের অনুপস্থিতিতে সহকারী চালক ট্রেন চালিয়েছেন, যেটা নিয়ম নয়। এটা জানতে পেরে রাজশাহী জংশন স্টেশন থেকে ট্রেনের পরিচালক আনোয়ার হোসেন-২, চালক (এলএম) আসলাম উদ্দিন খান ও সহকারী চালক (এএলএম) আহসান উদ্দিন আশাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁদের স্থলে অন্য তিনজনকে দিয়ে ট্রেনটি রাজশাহী থেকে পাবনা হয়ে ঈশ্বরদীতে আনা হয়। পরে তিনজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

সাময়িক বরখাস্তের এই খবর গতকাল রেলওয়ের পাকশী ও ঈশ্বরদী অফিসে জানাজানি হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই রসিকতা করে বলেন, যত দোষ প্রকৃতির ডাকের। নইলে কেনই বা তাঁদের এই অবস্থা হবে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা