kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুদকের গণশুনানি

চসিকের কর্মকর্তা কর্মচারী ও কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ৬৯ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চসিকের কর্মকর্তা কর্মচারী ও কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ৬৯ অভিযোগ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ এসেছে কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হোল্ডিং ট্যাক্সের অতিরিক্ত টাকা আদায়, ফ্ল্যাট বরাদ্দের নামে টাকা আত্মসাত্, জনবল নিয়োগে অনিয়ম, পরিচ্ছন্নতা, নালা ও জমি দখল।  

গতকাল সোমবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, চট্টগ্রাম আয়োজিত শুনানিতে এসব অভিযোগ তুলে ধরে প্রতিকার চায় নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) শাহ আলম বীর-উত্তম মিলনায়তনে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। 

শুনানিতে দুদক কর্মকর্তা, চসিকের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আলম নিজামী।
 
অনুষ্ঠানে ৬৯টি অভিযোগের বিষয়ে শুনে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। 

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার প্রবাসী জহির আহমদ নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তাঁর পাঁচতলা ভবনের জন্য এক লাখ ৪৩ হাজার টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করে দিলে তিনি সব টাকা জমা দেন, কিন্তু রসিদ দেওয়া হয় ৫৫ হাজার টাকার। এ ঘটনায় চার বছর ধরে ধর্না দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।

এই বিষয়ে তদন্ত শেষে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন দুদক কমিশনার। শুনানিতে ব্যবসায়ী আবদুল মতিন অভিযোগ করে বলেন, ‘সিসিসির লেকসিটি প্রকল্পে প্লট দেওয়ার নামে ৩৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন সিটি করপোরেশনের সার্কেল ৫-এর রাজস্ব কর্মকর্তা জানে আলম। তিনি আমাকে জাল কাগজপত্র দেন। এরপর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেও দেননি। আমি প্রতারিত হয়েছি।’ 

এই অভিযোগের বিষয়ে সিসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকায় জানে আলমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও চলছে। 

এ সময় দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম দুই মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি এবং ভুক্তভোগীর টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে চসিককে বলেন।  

লালখান বাজার ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা এ এফ কবির আহমদ মানিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মসজিদের জমিতে দোকান নির্মাণ করে ৭০ লাখ টাকা ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করা হয়। 

শুনানিতে উপস্থিত কাউন্সিলর কবির আহমদ মানিক এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে দুদক কমিশনার জেলা প্রশাসককে এই ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দেন। 

শুনানিতে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বেশ কয়েকজন অভিযোগকারীকে তাঁদের অভিযোগের বিষয়ে আগে দেখা করলে সমাধান হয়ে যেত বলে জানান। জবাবে শুনানিতে অংশ নেওয়া সেলিম চৌধুরী, নুর মোহাম্মদ খানসহ কয়েকজন অভিযোগকারী মেয়রকে বলেন, ‘আপনার অফিসে ঢুকতে পারি না। সেখানে ঢোকা খুব কঠিন। আপনাকে কিভাবে পাব?’

এ সময় মেয়র বলেন, ‘আমার অফিস সবার জন্য খোলা। সেখানে গেলে মনে হবে এটা কোনো অফিস নাকি খেলার মাঠ। সব সময় এক শজন লোক থাকে।’

দুদকের গণশুনানিতে শতাধিক অভিযোগ থেকে ৬৯টি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ জন অভিযোগকারী গণশুনানিতে অংশ নেয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা