kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কোটালীপাড়ায় তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ শুরু

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোটালীপাড়ায় তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ শুরু

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ৩ দিনব্যাপী দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ নৌকা বাইচ। এ নৌকা বাইচ প্রচীন ঐতিহ্যবাহী বিল বাঘিয়ার বাইচ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের মতো এ বছরও এই নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষের মিলন মেলা বসেছে কালিগঞ্জে। 

আজ সোমবার থেকে নান্দনিক এ নৌকা বাইচ বিপুল আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যে লালিত দু’শ বছরের আকর্ষণীয় এ নৌকা বাইচে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর, নড়াইল, বরিশাল জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের শতাধিক সরেঙ্গা, ছিপ, কোষা, চিলাকাটা, জয়নগর বাহারী নৌকা অংশ নেয়।

আবহমান গ্রাম বাংলার অতি প্রাচীন কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা ধরে রাখতে লাখো প্রাণের আনন্দ উচ্ছালতায় উপজেলার বাবুর খালে কালিগঞ্জ বাজার থেকে খেজুরবাড়ি পর্যন্ত ২ কি. মি. এলাকা জুড়ে নৌকা বাইচ ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বাড়তি আকর্ষণ ছিল নৌকায় নৌকায় মেলা। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজে এ নৌকা বাইচ শুরু হয়। বিভিন্ন বয়সের মানুষ খালের দু’পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকা বাইচ প্রত্যক্ষ করেন। দুপুর থেকে নানা বর্ণে ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত দৃষ্টিনন্দন এসব নৌকা তুমুল বাইচ শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে নৌকা বাইচের একের পর এক ছোপ। 

ঠিকারী ও কাঁশির বাদ্যের তালে জারি সারি গান নেচে গেয়ে হেঁইও হেঁইও রবে বৈঠার ছলাৎ-ছলাৎ শব্দে এক অনবদ্য আবহ সৃষ্টি হয়। দু’কূলে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষের হৃদয়ে জাগে দোলা। মাল্লাদের  সাথে সমবেত হন অগণিত সমর্থক ও দর্শক। তারা উৎসাহ দেন বাইচের নৌকার মাল্লাদের। নদীর দু’পাড়ে  দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের করতালীতে এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। গোটা এলাকায় সঞ্চারিত হয় উৎসবের আমেজ।

কলাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা বলেন, জলাভূমি বেষ্টিত কোটালীপাড়ার জীবন জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল নৌকা। প্রায় দু’শত বছর আগে লক্ষ্মীপূজার সময় নৌকা নিয়ে এলাকার মানুষ জমিাদার শিবরাম চৌধুরীর বাড়িতে যেতেন। পূজা দেখে ফেরার সময় নৌকায় নৌকায় পাল্লা হতো। নৌকার মাধ্যমে চিত্তবিনোদনের চিন্তা থেকে নৌকা বাইচের প্রচলন শুরু হয়। সে থেকেই লক্ষ্মীপূজার পরের দিন থেকে এ অঞ্চলের নৌকা বাইচ হয়ে আসছে স্বতঃস্ফুর্তভাবে।

জেলা পরিষদ সদস্য দেবদুলাল বসু পল্টু বলেন, ছোট বেলা থেকে এ নৌকা বাইচ দেখে আসছি। এখানে কখনোই কাউকে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে বাইচের আয়োজন করতে হয় না। স্বতঃস্ফুর্তভাবে এ এলাকায় বাইচ হয়ে আসছে। কোটালীপাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ নির্বাচনী এলাকা হওয়ার কারণে এখানের নৌকা বাইচগুলো নৌকা উৎসবে পরিণত হয়।

কলাবাড়ি শেখ রাসেল কলেজের অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বাড়ৈ বলেন, জীবনে অনেক স্থানের নৌকা বাইচ দেখেছি। কিন্তু এখানকার মতো এত বড়, কালার ফুল ও রাজকীয় ঢং এর নৌকা বাইচ আমি দেখিনি। শুধু কালিগঞ্জই নয় গোটা কলাবাড়ি ইউনিয়নব্যাপী এই নৌকা বাইচ উপলক্ষে আনন্দের ঢল নামে।

কলাবাড়ি ইউনিয়নের হিজলবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ লাভনী বনিক বলেন, এই নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আমাদের এলাকার প্রতিটি বাড়িতে বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিথি আসে। আমরা আনন্দমূখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সকলকে নিয়ে নৌকা বাইচ দেখি।

কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান জানান, কোটালীপাড়া উপজেলার বাঘিয়ার বিলের নৌকাবাইচ আমাদের কৃষ্টি কালচার ধরে রেখেছে। গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ নৌকাবাইচ উপভোগ করতে এখানে আসে। পরিণত হয় মিলন মেলায়। যে কারণে দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নৌকাবাইচ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নৌকা বাইচ নির্বিঘ্নে শেষ করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা