kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দিরাইয়ে হত্যার পর শিশুর লাশ গাছে ঝুলিয়ে দিল পাষণ্ডরা

দিরাই-শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিরাইয়ে হত্যার পর শিশুর লাশ গাছে ঝুলিয়ে দিল পাষণ্ডরা

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে রাতের আঁধারে ঘর থেকে তুলে নিয়ে তুহিন নামে ৫ বছরের এক শিশুকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘাতকরা তার লাশটি রাস্তার পাশের একটি গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে লিঙ্গ, দুটি কান কেটে একটি রাস্তায় ফেলে গেছে।

গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কাজাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সে গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনা জানাজানি হলে নিহতের বাড়িতে এলাকার লোকজন ভিড় জমায়। এমন ঘটনায় হতবাক সাধারণ মানুষ।

খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, সিআইড ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের পিতা ও তার তিন চাচা, চাচী ও দুই চাচাতো বোনকে থানায় নিয়ে আসে।

নিহত তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির জানান, পনের দিন পূর্বে তার এক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। রবিবার রাতের খাবার খেয়ে তুহিন ও তার ছোট ভাইকে নিয়ে ঘরের সামনে রুমে ও নবজাতককে নিয়ে মা পেছনের রুমে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে তার ভাতিজির ঘুম ভাঙলে দেখতে পায় সামনের দরজা খোলা। তুহিন ঘরে নেই। পরে দেখে মসজিদের পাশে ঝোপের মধ্যে গাছের সাথে ঝুলছে তুহিনের লাশ।

কাউকে সন্দেহ করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যা দেখিনি তা কিভাবে বলবো- বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ ঘটনা তুহিনের মাকে জানানো হয়েছে। তিনি কোনো কথা বলতে পারছেন না, বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কেজাউড়া পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তা রক্তে লাল হয়ে আছে। পাশেই ঝোপের মধ্যে একটি গাছে তুহিনের লাশ ঝুলে আছে। জমাট বাঁধা রক্তের পাশে তুহিনের একটি কাটা কান পড়ে আছে। লিঙ্গ ও একটি কান কেটে নিয়ে গেছে ঘাতকরা। তার পেটে বিদ্ধ দুটি ছোড়া লাগানো রয়েছে। ছোড়া দুটিতে গ্রামের সুলেমান ও সালাতুলের নাম রয়েছে, যাদের সাথে নিহত তুহিনের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী। ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা ঘুমন্ত অবস্থায় তুহিনকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে রাস্তায় জবাই করে হত্যা করে। এরপর কান ও লিঙ্গ কেটে লাশটি গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।

এলাকাবাসী জানান, গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন সঙ্গে নিহত তুহিনের পরিবারের বিরোধ চলে আসছে। এর আগে মধুপুর গ্রামের মজিব ও কাজাউড়া গ্রামের নিলুফার হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার অনেক ক্লু পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিনের বাবা, ৪ চাচা, এক চাচী ও এক চাচাতো বোনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা