kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মুক্তিযোদ্ধা বাবার কবরে টয়লেট বানানোর অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে!

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তিযোদ্ধা বাবার কবরে টয়লেট বানানোর অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে!

মুক্তিযোদ্ধা বাবার কবরের ওপর টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে তারই কাস্টমস কর্মকর্তা ছেলের বিরুদ্ধে!

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয়রা টয়লেটটি ভেঙে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে রবিবার দুপুরে উপজেলার বারুনিঘাটা গ্রামে গিয়ে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসর প্রাপ্ত সেনাবাহিনির ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুস সাত্তার ২০১৭ সালে মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর ২ বছরের মাথায় তার কবর দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছেন ছেলে কাস্টমস ইনস্পেক্টর আব্দুর রউফ।

কবর দখল করে প্রাচীর তুললেও রবিবার বিকালে স্থানীয় জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধারা তা ভেঙে দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার গত ২০১৭ সালের মারা যান। মৃত্যুর পর তার কবর বাদে ১২ শতক জমি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে ভাগ বাটোয়ারা করে নেন।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সরকারি চাকরিও পান। তাদের মধ্যে কাস্টমস ইন্সপেক্টর আবদুর রউফ খান বর্তমানে বগুড়ায় কর্মরত।

বড় ছেলে স্থানীয় কাবাষট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আসাদ খান মুনির অভিযোগ করেন, তার বাবার মৃত্যুর দুই বছর পার না হতেই ছোট ভাই আবদুর রউফ খান কবর দখল করেন। সেখানে তিনি একটি টয়লেট নির্মাণ করছেন। তিনি বাধা দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

এরপর বাবার কবর রক্ষায় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা চান বড় ছেলে আসাদ খান। বাবার সহযোদ্ধারা ঘটনাস্থলে এসে অমানবিক ঘটনাটি দেখে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

আসাদ খান মুনির জানান, তার বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার মৃত্যুর ২ বছর পার না হতেই কবর দখল করে তার ভাই বাথরুম নির্মাণ করছেন। বাধা দিয়েও ব্যার্থ হয়েছেন তিনি। বাবার কবর রক্ষায় তিনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। বাবার সহযোদ্ধারা এসে বিষয়টি দেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছেন। কিন্তু দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে আসেন নাই।

গতকাল বিকাল ৫টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় মুরুব্বিরা এসে কবরের ওপর তোলা প্রাচীর ভেঙে দেন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী গণমাধ্যমকে জানান, একজন মুক্তিযোদ্ধার কবর সংরক্ষণের পরিবর্তে তারই জায়গায় তার কবর দখলের চেষ্টা খুবই ঘৃণিত কাজ।

এ ব্যাপারে কাস্টমস ইন্সপেক্টর আব্দুর রউফ খান গণমাধ্যমকে জানান, তিনি তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি লাভ করেননি। এছাড়া জায়গাটা পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, বাবার কবর দখল করে কিছু করছেন না। মুরুব্বি ও মুক্তিযোদ্ধারা এসে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। বাবার কবর আগের মতই আছে।

তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফুয়ারা খাতুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাথরুম নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা