kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী পলাতক

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৫:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী পলাতক

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত স্বামী বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে ও পিটিয়ে স্ত্রী কুলসুম আক্তার মরিয়ম (২০) কে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। সোমবার ভোররাতে উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেড় বছর আগে একই ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের মৃত হক সাবেরের মেয়ে কুলসুম আক্তার মরিয়মের সাথে কড়ইতলা গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে শাহ আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত।

স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, স্বামী শাহ আলমের বড় ভাই বিল্লাল হোসেন ৭ বছর আগে মালয়েশিয়ায় চলে যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী রাশিদা বেগমের সাথে শাহ আলমের অবৈধ সম্পর্ক চলে আসছিল। ঘটনার দিন রাত ৩ টার দিকে শাহ আলম তার ভাবীর ঘর থেকে বের হয়ে নিজের ঘরে আসতে দেখে স্ত্রী কুলসুম স্বামীকে বকাঝকা করে। এ নিয়ে রাতেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যয়ে স্বামী শাহ আলম বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে কুলসুমের মাথায় ও শরীরে পিটিয়ে আহত করে। লাঠিরে আঘাতে কুলসুমের মাথা থেতলে যায়। ঘটনার পর স্বামী শাহ আলম পালিয়ে যায়। ভোর রাতে স্বানীয় লোকজন অজ্ঞান অবস্থায় কুলসুমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাইল জানান, কুলসুমকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ হাসপাতাল থেকে কুলসুমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠায়।

নিহতের চাচা শুক্কুর আলী জানান, বিয়ের সময় ১ লক্ষ টাকা ও ফার্নিচারসহ দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল দেওয়া হয়েছিল। তার পরও বিয়ের পর থেকে কুলসুমের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতো শাহ আলমসহ তার পরিবারের লোকজন।

নিহতের বড় ভাই শেখ ফরিদ জানান, কুলসুমের স্বামী তার বড় ভাই বিল্লাল বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই তার ভাবীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে কুলসুম প্রতিবাদ করলেই তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি লেগে থাকত। নিহত কুলসুমের ৬ মাসের জিয়াদ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা সজীব সরকার জানান, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে শাহ আলমের পিতা জলিল মিয়া ও মা কুলসুম বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। স্বামী শাহ আলম ও ভাবী রাশিদা পলাতক থাকায় তাদেরকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি।

আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, হত্যার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা