kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কক্সবাজারে দোকানিদের মুখে মুখে ‘পেঁয়াজ নেই’ রব

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজারে দোকানিদের মুখে মুখে ‘পেঁয়াজ নেই’ রব

ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারের দোকান-পাটগুলো যেন আকস্মিক পেঁয়াজ শূন্য হয়ে পড়েছে। বাজারের দোকান-পাটে পেঁয়াজ কিনতে গেলে দোকানিদের সাফ জবাব-‘পেঁয়াজ নেই।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। ওদিকে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানিও অব্যাহত রয়েছে। ফলে টেকনাফ সীমান্তে পেঁয়াজের দাম অনেকটাই কম থাকলেও কক্সবাজার শহরে তার উল্টো পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

কক্সবাজার শহরের কোনো কোনো দোকানে কেজি প্রতি ৮০/১০০ টাকা দিলে কিছু পেঁয়াজ মিলছে। তবে পরিমাণে কম। দাম বেশি দিলেও কোন দোকানিই এক সঙ্গে কয়েক কেজি পেঁয়াজ ক্রেতাকে দিচ্ছে না। রাতে শহরের প্রধান সড়কের কয়েকটি দোকানে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পেঁয়াজ নিয়ে রিতীমত কাড়াকাড়ি চলছে। আস্বাদনী নামের একটি সুপার সপের মালিক নটু দাশ বলেন-‘আমার দোকানেও পেঁয়াজ নেই। র্অপ পরিমাণের যাই আছে তা কেজিতে ৮০ টাকা বিক্রি করছি। আগামীকাল সোমবার বিক্রির জন্য আর মওজুদ নেই।’

তিনি জানান, শহরের আড়তদারদের কাছেও পেঁয়াজের মওজুদ নেই। টেকনাফ ও চট্টগ্রামের আড়তদারগণ চাহিদা মাপিক পেঁয়াজ বিক্রি করছে না। সরবরাহ না থাকায় আকস্মিক এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দোকানিরা বলেছেন, শহরের বড় বাজারের পেঁয়াজের আড়তের দোকানগুলোতে কোনো পেঁয়াজের স্টক নেই। চট্টগ্রাম শহরের আড়তদারগণও পেঁয়াজ বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার শহরের আড়তদারগণ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এ বিষয়ে বলেছেন- ‘রবিবারের পেঁয়াজের বাজার নিয়ে তিনি অবহিত নন। তবে সোমবার সকালেই তিনি বাজারের খবর নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।’

স্থানীয় বাংলাবাজারের পেঁয়াজের পাইকারী বিক্রেতা নাসিরুদ্দীন বলেছেন, মিয়ানমারের আমদানি করা পেঁয়াজ আনতে গিয়েও তারা বিপাকের মুখে পড়ছেন। মিয়ানমারের পেঁয়াজের দামও বাড়তি হওয়ায় পরিবহন খরচসহ এনে প্রশাসনের নির্ধারিত মূল্যে তারা বিক্রি করে পুষাতে পারছেন না।

এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানিও অব্যাহত রয়েছে। দেশের পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ করতে আমদানিকারকরা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করছেন। মিয়ানমার থেকে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ এনে এবং জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিংয়ের কারণেও স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

স্থলবন্দর কাস্টমস্ সূত্রে জানা যায়, রবিবার মিয়ানমার থেকে স্থলবন্দরে ৭৬০ দশমিক ৫৮৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। গত ১ অক্টোবর থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত ১৩ দিনে ৭ হাজার দশমিক ৪৮৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল ৩ হাজার ৫৭৩ মেট্রিক টন এবং আগস্ট মাসে আমদানি হয়েছিল মাত্র ৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।

আমদানি কারকরা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তবে আগামীতেও পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত থাকবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন।

এদিকে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকায় টেকনাফ সীমান্তের স্থানীয় পাইকারী বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন আগের চেয়ে কমেছে বরেও দাবি আমদানিকারকদের। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৭০ টাকা কেজি দরে মূল্য নির্ধারণ করেছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা