kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

অবহেলিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলেরা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবহেলিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলেরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯,৩৫০ জেলের মধ্যে শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার ২,৪১০ জন জেলে ইলিশ আহরণ করে থাকেন পদ্মা নদীর প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। ডিম পাড়তে ইলিশ উজানে পাড়ি জমায়। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর এলাকায় পদ্মা নদীও রয়েছে।

সরকার জেলেদের প্রণোদনা হিসেবে ইলিশ মাছ আহরণ না করার জন্য ২২ দিনে ২০ কেজি করে চাল প্রদান করে। যা দক্ষিণাঞ্চলের বেশীর ভাগ জেলেরা পেলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলার থাকে বঞ্চিত। গত কয়েক বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইলিশ ধরা জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দে চিঠি চালাচালি করে কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে বরাদ্দের দ্বিতীয় দফায় এসে গত মাসের ১৭ তারিখ এক হাজার জেলেকে চাল দেওয়ার অনুমোদনের কপি জেলায় এসে পৌঁছায়। যদিও জেলের সংখ্যা দ্বিগুনের বেশী।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আমিমুল এহসান জানান, জেলায় জেলের সংখ্যা নয় হাজার সাড়ে তিনশ‘র মধ্যে ২,৪১০ জন ইলিশ আহরণকারী জেলে রয়েছে। এক তথ্য মতে এ সময় ডিম পাড়ার জন্য অন্তত ১০০ টন ওজনের সমপরিমাণ মা ইলিশ উজানে ডিম পাড়তে আসে।

শিবগঞ্জ উপজেলায় তালিকাভূক্ত ও কার্ডধারী জেলের সংখ্যা ২,৭৮৫ জন। এদের মধ্যে ইলিশ ধরা জেলের সংখ্যা প্রায় এক হাজার বলে জানান শিবগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুণ কুমার মণ্ডল। কিছুদিন আগে এক হাজার জেলেকে চাল প্রদানের তালিকা পাঠালেও মন্ত্রণালয় ৪৫০ জনের অনুমোদন দেয়।

শিবগঞ্জ উপজেলায় বেশী জেলে রয়েছে পাঁকা ইউনিয়নে। যার সংখ্যা প্রায় ৪০০ বলে জানান পাঁকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান। কয়েক বছর থেকে উজানে ইলিশ ডিম পাড়তে আসা মৌসুমে সরকার সদর ও শিবগঞ্জে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করে। কিন্তু জন্য জেলেদের জন্য ছিল না কোনো অনুদান বা প্রণোদনা। পাঁকা ইউনিয়নের বেশীর ভাগ কৃষি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় অনেকেই পেশা বদল করে হয়েছেন জেলে। মাছ ধরা ও বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ তাদের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস। এদের অনেকেই দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করে জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাবার কারণে।

পাঁকা ইউনিয়নের বোগলাউড়ি গ্রামের জেলে রফিক, আবুল কালাম, মানিক, সফিকুল ইসলাম ও বাবলুসহ অনেক জেলে জানান, এর আগে সরকার ইলিশ ধরা বন্ধ করলেও কোনোদিনও কোনো চাল বা প্রণোদনা পাইনি। অন্য জেলার জেলেদের অনেক আগে থেকেই ইলিশ ধরা মৌসুমে সরকার চাল দিলেও আমাদের দেওয়া হয়নি।

তারা আরো জানান, একটা বড় ইলিশ ধরতে পারলে দিনে ৮০০-১০০০ টাকা আয় করা সম্ভব। যারা কোনো রকমে লুকিয়ে কয়েকদিন ইলিশ মাছ ধরে তারা ২০/২২ দিনে ১২-১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারে। এ দিয়েই আরো ২/৩ মাস চলে অনেকের। কিন্ত শুনছি সরকার এবার শিবগঞ্জে ৪৫০ জন জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেবে। এটা অতি নগণ্য। বসে থেকে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে এ চাল দিয়ে কি চলা সম্ভব?

মৎস্য কর্মকর্তা বরুণ কুমার মণ্ডল জানান, এবারই প্রথম উপজেলা ৪৫০ জনকে চাল দেওয়া হবে মঙ্গলবারের মধ্যে। এর আগে ইলিশ আহরণ করা জেলে থাকলেও কয়েকবার চেষ্টা করেও প্রণোদনার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০১৯’ উপলক্ষে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর মোট ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ-আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। ৬ অক্টোবর রবিবার এক তথ্য বিবরণীতে এতথ্য জানানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা