kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

তাড়াশ-হামকুড়িয়া রাস্তা বেহাল, এলাকারবাসীর উদ্যোগে সংস্কারচেষ্টা

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাড়াশ-হামকুড়িয়া রাস্তা বেহাল, এলাকারবাসীর উদ্যোগে সংস্কারচেষ্টা

সিরাজগঞ্জে তাড়াশ উপজেলার রানীর হাট-হামকুড়িয়া ভায়া তাড়াশ রাস্তার তাড়াশ-রানীর হাট অংশে ১৭ কিলোমিটার রাস্তার টেন্ডার হয়ে এ বছরেই সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু রাস্তাটির অপর অংশ তাড়াশ-হামকুড়িয়া সড়কের সাড়ে আট কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ রাস্তাটি সচল হলে চাটমোহর ও গুরুদাসপুর উপজেলার সাথে সহজ যোগাযোগ সম্ভব হবে। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাটির অবস্থা এতই শোচনীয় যে, খোদ সড়ক বিভাগই বলছে বড় বাজেটের প্রকল্প ছাড়া সংস্কার করা আদৌ সম্ভব নয়। নিরুপায় হয়ে এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে মান্নানগর বাজার অংশ সম্প্রতি সংস্কার করে কোনোমতে সচল রেখেছেন।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার সাথে সহজ আন্তযোগাযোগের জন্য ১৯৮৫ সালে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ অংশে রয়েছে সাড়ে ২৫ কিলোমিটার। চলতি বছরে রাস্তাটির উত্তরাংশের তাড়াশ-রানীহাট সড়কের ১৭ কিলোমিটার প্রশস্তকরণ, মজবুতকরণ ও মেরামতের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। এ লক্ষ্যে জেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৩০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এবং ২৫ মে থেকে কাজ শুরু করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু রাস্তাটির দক্ষিণ অংশ তাড়াশ-হামকুড়িয়া সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যার ফলে তাড়াশ দক্ষিণ ওয়াবদাবাঁধ, ঘরগ্রাম, দোবিলাবাজার ও মান্নাননগর এলাকার লোকজন ঘুরে মহিষলুটি এলাকা দিয়ে তাড়াশ সদরে চলাচল করে থাকেন।

দোবিলা গ্রামের বাসিন্দা প্রভাষক নূরুজ্জামান ফণি বলেন, তাড়াশ-হামকুড়িয়া রাস্তাটি বর্তমানে পরিত্যক্ত। এ রাস্তা দিয়ে যান চলাচল তো দূরের কথা, মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের দক্ষিণপাশে মান্নাননগর বাজার এলাকা প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা খানাখন্দে আর জলাবদ্ধতায় একাকার। বাজারের স্বার্থে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই টাকা তুলে ইট বালি কিনে এনে রাস্তাটি সংস্কার করার চেষ্টা করছেন। 

হামকুড়িয়া চৌরাস্তা বাজার কমিটির ক্যাশিয়ার ফজলুর রহমান বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে বারবার আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে বাজারের স্বার্থে আমরাই চাঁদা তুলে রাস্তাটি সচল রাখার চেষ্টা করছি। ব্যবসায়ী মো. এরশাদ আলী বলে, ওই রাস্তার পাশেই আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। রাস্তা এতই খারাপ যে, প্রতিদিনই লোকজন কোনো না-কোনো দুর্ঘটনার শিকার হন। তাই এলাকাবাসীর জোর দাবি রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, সত্যি কথা বলতে কি রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা এতই খারাপ যে, বড় বাজেটের প্রকল্প ছাড়া মেরামত সম্ভব নয়। আর আগামী জুন মাসের আগে এ রাস্তা সংস্কারের কোনো সম্ভাবনাও দেখছি না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা