kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

উচ্ছেদ অভিযানে জনতার হামলা, ভাঙচুর-গুলি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উচ্ছেদ অভিযানে জনতার হামলা, ভাঙচুর-গুলি

মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে বিআইডাব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযান দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। আজ ঘাটসংলগ্ন নদীতে বেশ কয়েকটি অবৈধ ড্রেজার গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। 

এর পূর্বে গতকাল বিআইডব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে ৪টি গাড়ি। এক ব্যক্তিকে আটক করে ১৫ দিনে জেল দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে এ অভিযান চালায় বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় ২ শতাধিক টংঘর ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসাইন, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাবৃন্দ। অভিযানের পূর্বে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাবিরুল ইসলাম খান ঘাটে এসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে সহযোগিতা করেন।

দুপুরে অভিযান শুরু করে একের পর এক দোকানঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল বিআইডব্লিউটিএর বিশালাকার ভেকু। প্রথম শুধু টংঘরের কথা বলা হলেও হোটেল রেস্টুরেন্টসহ একের পর এক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ঘাটের সব দোকানপাট। বিকেলে ঘাটে দক্ষিণ দিকে নিরালা হোটেলের কাছে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বিআইডব্লিউটিএর আভিযানিক দলের ওপর হামলা চালায়। এ সময় একটি মাইক্রোবাস, একটি প্রাইভেট কারসহ দুটি বাস ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। তাদের দাবি, নিরালা হোটেলের ওই পাশটি ব্যক্তিমালিকানার জায়গা। বিআইডব্লিউটিএ অবৈধভাবে এ দোকানঘরগুলো উচ্ছেদ করছিল। এতে জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালায়। তারা বিআইডব্লিউটিএর ১টি টিনশেড যাত্রী ছাউনি ও ট্রাফিক পুলিশের কন্ট্রোলরুমও ভাঙচুর করে। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে পুলিশ ৪ রাউন্ড গুলি চালায়।

লৌহজং থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন জানান, ভাঙচুরের অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে মো. ওয়াহিদকে ১৫ দিনের জেল দেন বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ৪ রাউন্ড রাবার বিলুট নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আগামীকাল আবারো উচ্ছেদ অভিযান চলবে।

এ দিকে দোকানদাররা অভিযোগ করেন, তাদের কোনো মালামাল সরাতে সময় দেওয়া হয়নি। কয়েকজন দোকানদার বলেন, ঘাট আর ২ বছর আছে, এর পরেই পদ্মা সেতু চালু হবে, তখনতো আর ঘাট থাকবে না, এমনিতেই আমাদের উঠে যেতে হবে। তার আগেই কোনো রকম মানবিক বিচার না করে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে আমরা বেকার ও পথে বসে যাব, এখন থেকে আমাদের পরিবারের সদস্যদের না খেয়ে দিন কাটাতে হবে। আর এ উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় দুই হাজার পরিবার বেকার হয়ে পড়বে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করে।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের নির্দেশে গতকাল এ অভিযান চালানো হয়। এখানে বৈধ-অবৈধ মিলে কয়েক শতাধিক খাবার হোটেলসহ বিভিন্ন প্রকার দোকান ঘর রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ সকল অবৈধ দোকান ঘর উচ্ছেদ করবে। বিকেলে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ জনতাকে শান্ত করতে ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় এক ব্যক্তিকে ভাঙচুরের অভিযোগে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের জেল দেওয়া হয়েছে। আগামীকালও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা