kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ধর্ষণের শিকার হয়ে বিচারের দাবিতে লড়ছেন এক নারী

চট্টগ্রামের দুই উপজেলার দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওএসডি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধর্ষণের শিকার হয়ে বিচারের দাবিতে লড়ছেন এক নারী

চট্টগ্রামের একটি উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এক নারী কর্মী চাকরিজীবনে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাত্সহ নানা অত্যাচারের ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। এক মাস আগে এসব ঘটনা জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অধিদপ্তরের আওতাধীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়েছেন ওই নারী। 

অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. ফোরকান উদ্দিন। বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা একই সঙ্গে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর বাড়িও চন্দনাইশ উপজেলায়।

চট্টগ্রামের ওই দুই উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করতে গত সপ্তাহের শেষ দিকে চট্টগ্রাম আসেন এক সদস্যের এই তদন্ত কমিটির প্রধান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আশরাফুন্নেছা। জানা যায়, তিনি ২ অক্টোবর চট্টগ্রামের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগীয় কার্যালয়ে ওই নারী কর্মচারী, তাঁর স্বামীসহ বিভিন্নজনের সাক্ষাত্ নেন। পরদিন তিনি আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে গিয়ে তদন্তকাজ করে ঢাকায় ফিরে যান। 

তদন্তকাজের প্রথম দিনই অভিযুক্ত কর্মকর্তা ফোরকান উদ্দিনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে (নিজ বেতনে) যোগদান করতে বলা হয়। এই আদেশ গত ৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে। 
প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ফোরকান উদ্দিনের শাস্তির দাবিতে লিখিত অভিযোগ করা ওই নারী গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটিতে আমি ও আমার স্বামী লিখিত ও মৌখিক জবানবন্দি দিয়েছি। গত বছরের ৮ মার্চ কৌশলে আমার বাসায় এসে একপর্যায়ে মুখ চেপে ধরে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন ফোরকান উদ্দিন। এরপর ধর্ষণের ভিডিও (গোপনে ধারণকৃত) প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে আরো কয়েকবার ধর্ষণসহ বিভিন্ন সময় টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাঁর কথায় রাজি না হলে কখনো বদলি আবার কখনো চাকরিচ্যুতির হুমকি এবং ঘটনা প্রকাশ করলে প্রাণনাশেরও হুমকি দেন। তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে চলতি বছর মার্চ মাসে আমার স্বামীকে পুরো ঘটনাটি বলি। এরপর তিনি আমার স্বামী ও পরিবারকেও হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন। বাধ্য হয়ে গত মাসের প্রথম দিকে সচিব স্যার (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়), ডিজি (পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর) স্যারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে আমি লিখিতভাবে ঘটনাটি জানিয়ে ফোরকান উদ্দিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছি। 

প্রায় দেড় বছর পর কেন অভিযোগ করেছেন জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের পর থেকে তাঁকে বছরে দুইবার ভারতে চিকিত্সার জন্য যেতে হয়। আমার বাসায় যেদিন ঘটনাটি ঘটেছে তাঁর কয়েক দিন আগে স্বামী ভারতে গিয়েছিলেন চিকিত্সার জন্য। আমার বড় ছেলে তখন ঢাকার একটি কলেজে এইচএসসি পড়ছিল। ঘটনার দিন ছোট ছেলে সকালে স্কুলে গিয়েছিল। কৌশলে আমার মোবাইলে ফোন করে পরিবারে এসব বিষয় জেনে নিয়েছিলেন ফোরকান। সকাল সাড়ে ৮টায় ফোন করে হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি বাসায় এসে কলিংবেল চাপেন। স্যার বাসায় এসেছেন তাঁকে চা-নাশতা দেওয়ার জন্য কিচেনে যেতেই তিনি আমার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। এরপর আরো কয়েকবার তিনি আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অর্থ আত্মসাত্সহ নানাভাবে অত্যাচার করেন। লোকলজ্জা ও আত্মসম্মানবোধের কারণে বাধ্য হয়ে তাঁর এসব অনৈতিক নিপীড়ন আমাকে সহ্য করে যেতে হয়েছে।

ওই নারী বলেন, স্বামী চিকিত্সা নেওয়ার পর দেশে ফিরলে তাঁর আবারও হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ভয়ে বিষয়টি বলিনি। স্বামী, দুই ছেলে ও পরিবারের দিকে তাকিয়ে চোখ বুজে সব সহ্য করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এখন আমি স্বামীকে নিয়ে ওই ধর্ষণকারী, প্রতারক, লম্পটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছি। 

ধর্ষণ, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত্সহ নানা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সালেহ মো. ফোরকান উদ্দিনের সঙ্গে গতকাল মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা