kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে পানিতে ফেলে শিশু হত্যা, যাবজ্জীবন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:৫২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে পানিতে ফেলে শিশু হত্যা, যাবজ্জীবন

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ৯ বছর বয়সী শিশু রুবেল মিয়াকে বলাৎকার করতে না পেরে হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে হত্যাকারী রায়হান মিয়া ওরফে জাবেদ রায়হান (৩১) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার বেলা ১২টায় হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম নাসিম রেজা এই রায় প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক মো. আল-আমিন। দণ্ডপ্রাপ্তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৫ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। ঢাকার রমনা থানার শিকদার বাড়ি এলাকার শাহজাহান মোল্লার ছেলে রায়হান লাখাই উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের আব্দুল হাই মাস্টারের পালিত পুত্র। রায় ঘোষণার সময় রায়হান আদালতে উপস্থিত ছিল।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হত্যাকারী রায়হান লাখাই উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের আব্দুল হাইকে পিতা ডেকে সেখানেই বসবাস করে আসছিল। ২০০৩ সালের ৮ আগস্ট একই গ্রামের শরীফ মিয়ার ৯ বছর বয়সী সন্তান রুবেলকে মাছ ধরার কথা বলে নৌকাতে করে পার্শ্ববর্তী হাওরে নিয়ে বলাৎকারের চেষ্টা চালায়। শিশু রুবেল এ সময় চিৎকার শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে দেয় রায়হান। ঘটনার ৩ দিন পর হাওরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। ১১ আগস্ট মরদেহ উদ্ধারের দিনই রুবেলের পিতা শহিদ মিয়া বাদী হয়ে রায়হানকে একমাত্র অসামি করে লাখাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে রায়হানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে ২০০৩ সালের ১২ আগস্ট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে সে হত্যার দায় স্বীকার করে। স্থানীয় লোকজনও রায়হান এর সাথে রুবেলকে ওই দিন দেখতে পায়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৫ অক্টোবর লাখাই থানার তৎকালীন এসআই শাহজাহান মিয়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৬ বছর পর ১২ জনের স্বাক্ষী গ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ ফারুক জানান, রায় ঘোষণার পর রুবেলের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্র পক্ষ এই রায়ে খুশি। এতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা