kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

বৈদ্যুতিক শকে মারাত্মক আহত মেধাবী আকাশ বাঁচতে চায়

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৈদ্যুতিক শকে মারাত্মক আহত মেধাবী আকাশ বাঁচতে চায়

এইচএসসি পাস করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন মেধাবী আকাশ। এর মধ্যেই বৈদ্যুতিক শকে মারাত্মক আহত হয়ে রীতিমতো শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন তিনি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তো দূরের কথা চিকিৎসা করে জীবন বাঁচানোই দুরূহ হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবারের পক্ষে।

আকাশকে বাঁচাতে দেশের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন তার দরিদ্র বাবা-মা। লেখাপড়ার খরচ যোগাতে আকাশ বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন। সেখানে কাজ করার সময় বৈদুতিক শর্ট সার্কিটের আগুনে তার দেহের ওপরের অংশ পুড়ে গেছে।

আকাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের চামারী ফতেপুর গ্রামের মো. তারা মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, চামারী গ্রামের দরিদ্র মো. তারা মিয়ার ২ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে আকাশ তৃতীয় সন্তান। পিতা তারা মিয়া ঢাকায় বাঁশের বেড়া তৈরির কাজ করেন। তিনি যে টাকা উপার্জন করেন তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন।

আকাশ এ বছর টাঙ্গাইল এম এম আলী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। দরিদ্র বাবা আকাশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা যোগাতে না পারায় টাকা যোগাতে তিনি ঢাকার নেইম পাওয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ নেন। ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার ডেল্টা গার্মেন্টে ইলেকট্রিকের কাজ করতে যান। কাজের সময় আকাশের এক সহকর্মী টেস্টারের মাধ্যমে জানান বোর্ডে লাইন নেই। এ সময় আকাশ ওই বোর্ডে একটি সকেট লাগানোর চেষ্টা করলে শর্ট সার্কিট হয়ে তার দেহে আগুন লেগে ওপরের অংশ পুড়ে যায় এবং লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা বাবদ প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। এজন্য প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। চিকিৎসা করাতে এই বিপুল অংকের টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয় বলে আকাশের বাবা মো. তারা মিয়া জানিয়েছেন।

আকাশের চিকিৎসার জন্য বন্ধুরা ও তার গ্রামের লোকজন এ পর্যন্ত প্রায় সোয়া লাখ টাকা খরচ করেছেন। আকাশ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন ভবনের চারতলা ব্লু ইউনিয়টের ১৮ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন।

আকাশের বন্ধু রিফাত হোসেন ও খন্দকার হৃদয় জানান, আকাশ দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও মেধাবী। তার বাবা-মা এতই দরিদ্র যে তাদের পক্ষে আকাশের লেখাপড়ার খরচ বহন করা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে আকাশ বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে দৈনিক মুজুরিতে কাজ করতো। কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন লেগে তার দেহের ওপরের অংশ পুড়ে গেছে। বন্ধুরা ও আকাশের গ্রামের লোকজন প্রায় সোয়া লাখ টাকা করচ করেছেন বলে তারা জানান।

আকাশের বাবা মো. তারা মিয়া জানান, যেখানে ছেলের লেখাপড়ার খরচ বহন করা সম্ভব নয়। সেখানে কিভাবে ১৫/১৬ লাখ টাকা খরচ করে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাবো। ছেলেকে বাঁচাতে দেশের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন তিনি।

আকাশের চিকিৎসার জন্য সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: মো. তারা মিয়া (বাবা)- ০১৭৬৪৬০৯৯১১ (বিকাশ), ০১৭৯৩০৩৩৩১৩ (মুঠোফোন)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা