kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

মানববন্ধন ও বিচার দাবি

পাটগ্রামে ছাত্রীদের কাছে শিক্ষকদের ক্ষমা চাইতে বাধ্য করলেন ইউএনও!

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাটগ্রামে ছাত্রীদের কাছে শিক্ষকদের ক্ষমা চাইতে বাধ্য করলেন ইউএনও!

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে কালীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষককে একই বিদ্যালয়ের ছাত্রী (খেলায়াড়) ও কোচের নিকট ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার প্রতিবাদে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মানববন্ধন ও বিচার দাবি করে উপজেলা চেয়াম্যানের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) পাটগ্রাম এর আয়োজনে আজ সোমবার (২৩ সেপেটম্বর) উপজেলার চৌরঙ্গী মোড় সড়কে ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর অপমানজনক আচরণের প্রতিবাদে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) এর পাটগ্রাম উপজেলা সভাপতি ও পাটগ্রাম টি এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব প্রধান, পানবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়ালিউর রহমান সোহেল, পৌর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম, টি এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক রশিদুল ইসলাম প্রমূখ।

জানা গেছে , কালীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ৪৮তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা জাতীয় গোল্ডকাপ (অনূর্ধ্ব-১৭ বালিকা) ফুটবল খেলার জন্য রংপুরের আলীম আল সাঈদ খোকনকে কোচ হিসেবে রাখেন। কিছু দিন পর ফুটবল টিমের কোচ আলীম আল সাঈদ খোকনের সাথে ওই বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকের মনোমালিন্যের হয়। মনোমালিন্যের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও দীপক কুমার দেব শর্মার নিকট খেলোয়াড়দের মাধ্যমে বিচার দাবি করেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাট শেখ কামাল স্টেডিয়ামে জেলা পর্যায়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেছো জাতীয় গোল্ডকাপ (অনূর্ধ্ব-১৭ বালিকা) ফুটবল খেলা শেষে কালীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫ ছাত্রী (খেলোয়াড়) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন তাদের স্কুলের শিক্ষকেরা কোচ ও তাদের  বিরুদ্ধে বাড়িতে মা-বাবার কাছে খারাপ কথা বলেছে। এ সময় তারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ও দুজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা রাত নয়টায় ১৫ ছাত্রী ও কালীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষক শরীফুল ইসলাম, আহমেদ আলী, মাওলানা সহিদার রহমান, সুদীপ্ত কুমার বর্মাকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। এ ছাড়া ওসিসহ থানা পুলিশকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। পরে তিনি ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও কোচের নিকট শিক্ষকদের ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।

এ ঘটনায় পরদিন রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কালীরহাট-পাটগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করে। পরে থানা পুলিশ ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির নের্তৃবৃন্দ শিক্ষকদের অপমানের বিচার হবে জানিয়ে আশ্বস্ত করলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। 

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা সহিদার রহমান বলেন, আমরা কখনোই কোনো ছাত্রীদের খেলার বিরুদ্ধে বা অপবাদমূলক কথা বলিনি। ২৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এতবড় অপমানিত হইনি। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও তার অফিসে বলেছেন আপনারা ক্ষমা না চাইলে আপনারদেরকে পুলিশে দেওয়া হবে। মামলা করা হবে। তাই বাধ্য হয়ে ক্ষমা চাই।

কোচ আলীম আল সাঈদ খোকন বলেন, শিক্ষকদের সাথে কোনো মনোমালিন্য নেই। খেলোয়াড়রা নিজেরা ইউএনওর কাছে বিচার ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, খেলোয়াড়রা শিক্ষকদের বিচার দাবি করে আমার কার্যালয়ে আসে। এ জন্য আমি নিজেই   শিক্ষার্থী ও কোচের কাছে তাদের হয়ে ক্ষমা চেয়েছি। আমার কার্যালয়ে শিক্ষকদের ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়নি বলে তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা