kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

মানসিক ভারসাম্য হারালেন গণধর্ষণের শিকার সেই গৃহবধূ

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানসিক ভারসাম্য হারালেন গণধর্ষণের শিকার সেই গৃহবধূ

সোনাগাজীতে গণধর্ষণের শিকার সেই গৃহবধূ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। ধর্ষণের অপমান সইতে না পেরে এমনটা হয়েছে বলে তার পিতার দাবি। ক্ষণে ক্ষণে চিৎকার দিয়ে বলে ওঠে আমার মাদরাসাপড়ুয়া ছেলেকে কি বুঝ দিমু, আর বিয়াদারিয়া (বিবাহ উপযুক্ত) মেয়েকে কি বুঝ দিমু? আরে কিল্লায় এই বরবাদ করলি তোরা, আর জামাই মরার হরও আই বিয়া বইনু (বসিনি), আল্লাহ তোগো বিচার করুক, এভাবে বিলাপ করতে থাকে পাশবিক নির্যাতনের শিকার সোনাগাজীর দুই সন্তানের জননী এ নারী। গত কয়েকদিন যাবৎ এভাবে বিলাপ করতে করতে আবোল-তাবোল বকাবকি করছে সে। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা। কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলার একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে শনিবার বিকেলে বাড়ি আনা হয়েছে তাকে।

তাঁর পিতা সাহাব উদ্দিন জানান, সেখান থেকে চিকিৎসা দিয়ে আনার পর গৃহবধূকে বাড়িতে রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ঘুমের ওষুধসহ মানসিক সমস্যার ওষুধ দিয়েছেন। ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে উঠে সে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। তার দাবি গণধর্ষণের দৃশ্যপট তার চোখে ভেসে উঠলে সে বিলাপ শুরু করে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ সেপ্টেম্বর পিতার বাড়িতে জমির বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের উত্তর সোনাপুর গ্রামের এক গৃহবধূ ও তার পিতা-মাতা। বিচার চাইতে থানায় এসে অভিযোগ দেন তিনি। থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রহিমা আক্তার সুন্দরী নামের এক প্রতারক নারী নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। এদিকে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই সুজন কুমার দাস অভিযোগ তদন্ত না করে কালক্ষেপণ করায় ওই নারী প্রতিপক্ষের ভয়ে বাড়িতে যেতে সাহস পাননি। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে রহিমা সুন্দরী তার বাসায় পাঁচজন যুবককে দিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করায়। একপর্যায়ে গৃহবধূ অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধর্ষণকারীরা তার সাথে থাকা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মামলা দায়েরের দিন অভিযোগ করেছিলেন গণধর্ষণের শিকার হয়ে সে দুই দিন যাবৎ এএসআই সুজন ও সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিলেন। এএসআই সুজন আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে রহিমা সুন্দরীকে থানায় ডেকে এনে নির্যাতিতা নারীর সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে দেন। একপর্যায়ে ধমক দিয়ে থানা থেকে বের করে দিয়ে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার জন্য পাঠিয়ে দেন। ১৭ সেপ্টেম্বর সে এলাকাবাসীর সহায়তায় বিষয়টি থানার ওসিকে জানালে তিনি মামলা রুজু করেন। একই রাতে রহিমা সুন্দরী ও সঞ্জু শিকদারকে গ্রেফতার করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার সময় ওই গৃহবধূ জানান, এএসআই সুজন তাঁকে দুবার ধর্ষণ করেছেন। এ ছাড়াও আরো পাঁচ যুবক তাকে পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এএসআই সুজনের বিরুদ্ধে আদালতে জবানবন্দির পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ খালেদ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, ওই গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডের আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা