kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা নেই বুড়িমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:৪২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা নেই বুড়িমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর জাওরানী বুড়িমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা নেই। শিক্ষকরা আসেন নিজেদের খেয়াল খুশি মতো। নিয়ম অনুযায়ী লেখাপড়া তো দূরের কথা শিক্ষার্থীদের সমাবেশই হয় না নিয়মিত এমনটি অভিযোগ এলাকাবাসীর।

উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৭ কি.মি উত্তর-দক্ষিণে বিদ্যালয়টির অবস্থান। শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২১৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে রয়েছেন ৫ জন শিক্ষক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯ টায় বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, ৯টা ১৫ মিনিটে সমাবেশ এবং সাড়ে ৯ টায় শিক্ষার্থীদের প্রথম ক্লাস হওয়ার কথা।

রবিবার সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল ১০টা পর্যন্ত শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক উপস্থিত হয়েছেন। পাঠদান তো দূরের কথা তখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সমাবেশেই অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই শিক্ষার্থীরা নিজ মনে খেলা করছে মাঠে। কিছু সময় পর সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম বিদ্যালয়ে আসেন। তখন সময় ১০টা ১৫ মিনিট।

এ সময় তিনি জানান, ব্যক্তিগত কাজে উপজেলা শহরে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে আসতে একটু বিলম্ব হয়েছে। বিষয়টি তিনি প্রধান শিক্ষককে অবগত করেছেন বলে জানান।

স্থানীয় প্রভাবশালী সহকারী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত নুরনবী হোসেন। যখন বিদ্যালয়ে এলেন তখন সময় সাড়ে ১০টা পেরিয়েছে। অন্যদিকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত অপর দুই শিক্ষিকা মধুমিতা রানী ও স্বপ্না রানী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি। এমনকি বেলা ১১ টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সমাবেশ কিংবা কোনো শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের দৃশ্য চোখে পড়েনি।

অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন জানান, বিদ্যালয়টিতে নিয়ম অনুযায়ী লেখাপড়া হয় না। শিক্ষকরা নিজের খেয়াল খুশি মতো বিদ্যালয়ে আসেন যান। প্রধান শিক্ষকের নিকটতম আত্মীয় অনন্ত কুমার বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ায় কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও এ বিষয়ে কিছু বলেন না। এ কারণেই অভিভাবক বিহীন হয়ে আছে বিদ্যালয়টি।

এ বিষয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতাব চন্দ্র রায় বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় তো একটু এমন হবেই। শুধু এখানে নয়, প্রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই এমনটা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার সোলায়মান মিয়া বলেন, বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা