kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

রোহিঙ্গাদের এনআইডি জালিয়াতি

পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অনুমতি পেয়েছে দুদকদল

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:৫২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অনুমতি পেয়েছে দুদকদল

জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ঘটনা অধিকতর তদন্তের অনুমতি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে অধিকতর তদন্তের অনুমতি চেয়ে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট টিম। গতকাল রবিবার সেই তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অনুমোদন পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে বিভিন্ন তথ্যের চাহিদাপত্র তৈরি করছে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২। আজ সোমবার সকালে লিখিত অনুমতিপত্র হাতে পেলে তার ভিত্তিতে ওই চাহিদাপত্র ইসির কাছে পাঠানো হবে বলে দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর উপপরিচালক মো. মাহবুব আলমকে। এ ছাড়া পুরো কার্যালয়কেই তদন্ত কমিটির অংশ করা হয়েছে বলে দুদকের একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের এনফোর্সমেন্ট টিম পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অনুমোদন পাওয়ায় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আসামিদের গ্রেপ্তারে বর্তমানে মামলার তদন্তকারী সংস্থা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা দুদকের। কারণ শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের মামলার ধারা ও এজাহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান মাহবুব আলম গত বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ করলে সে বিষয়ে মামলা করার ক্ষমতা থানা পুলিশের নেই। মামলা দুদক কার্যালয়েই নথিভুক্ত করতে হবে। দুদক বিধিমালা-২০১৯ সংশোধনীতে সেটাই বলা হয়েছে। সে কারণে ইসির করা মামলাটিও নথিভুক্ত করার আইনগত ক্ষমতা একমাত্র উপপরিচালক দুদক চট্টগ্রামের। 

কী কারণে ইসির মামলাটি দুদকের তফসিলের বাইরে করা হয়েছে এবং কোন স্বার্থে, কোন কোন রাঘব বোয়ালকে বাঁচানোর অপচেষ্টায় দুদককে পাশ কাটিয়ে একটি ত্রুটিযুক্ত মামলা করা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মাহবুব আলম।

দুদকের এই তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনের ৪৩৯১ আইডির নিবন্ধিত ল্যাপটপটি ২০১৪ সালে হারিয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উদ্ধারের কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। সরকারের সম্পদ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক চুরি দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অপরাধ, নির্বাচন কমিশন মামলার এজাহারে ধারাটি সংযোজন করেনি। ল্যাপটপটি উদ্ধারে পদক্ষেপ না নেওয়া ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও মামলায় আসামি করা হয়নি।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, নিয়ম অনুযায়ী কাউন্টার টেররিজম মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিতে পারবে না। কারণ দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় এই মামলা দুদকেই হস্তান্তর করতে হবে।

দুদক সূত্র জানায়, সংস্থার পক্ষ থেকে ইসি সচিবের কাছে তথ্য চেয়ে যে চাহিদাপত্র তৈরি করা হচ্ছে তাতে ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় কতগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্য আবেদন করা হয়েছে, এর মধ্যে রোহিঙ্গা কতজন, এনআইডি জালিয়াতি, রোহিঙ্গাদের এনআইডি কার্ড প্রাপ্তি নিয়ে বিভাগীয় তদন্তে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ইসি নিবন্ধিত কতগুলো ল্যাপটপ চট্টগ্রামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো কাদের নামে বরাদ্দ আছে—সেই সব বিষয় থাকবে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তার সম্পদের অনুসন্ধানও করা হবে।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক ও এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্য শরিফ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত হবে পুলিশের তদন্তের চেয়ে একেবারে আলাদা। এই তদন্ত হবে অনেক ব্যাপক আকারের। আমরা জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে এনআইডি ও পাসপোর্ট প্রাপ্তির প্রতিটি ধাপ ধরে অনুসন্ধান করব।’

ইসি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্পদের অনুসন্ধান প্রসঙ্গে শরিফ উদ্দিন আরো বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া জয়নালসহ যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই প্রক্রিয়ায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অধিকারী হয়েছে বলে মনে হয়, দুদকের অনুমতি সাপেক্ষে তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা