kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

ক্লাবগুলোতে অভিযান নিয়ে প্রশ্ন হুইপ সামশুল হকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্লাবগুলোতে অভিযান নিয়ে প্রশ্ন হুইপ সামশুল হকের

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে। দেশের অভিজাত নামি-দামি বিভিন্ন ক্লাবগুলোতেও অভিযান চলছে। অভিযান শুরুর পর থেকে ক্যাসিনোসহ ক্লাবের আড়ালে ‘অবৈধ জুয়ার আসর’ মূল হোতারাও অনেকটা গা ঢাকা দিয়েছে। 

এদিকে এসব অভিযানের ধরন ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী।

গতকাল রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে  চট্টগ্রাম বিভাগে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিসংক্রান্ত পর্যালোচনাসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে শতদল, ফ্রেন্ডস, আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধাসহ ১২টি ক্লাব আছে। ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লীগে খেলে। ওদের তো ধ্বংস করা যাবে না। ওদের খেলাধুলা বন্ধ করা যাবে না। 
প্রশাসন কি খেলোয়াড়দের পাঁচ টাকা বেতন দেয়? ওরা কিভাবে খেলে, টাকা কোন জায়গা থেকে আসে, সরকার কি ওদের টাকা দেয়? দেয় না। এই ক্লাবগুলো তো পরিচালনা করতে হবে।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাবে বসে তাস খেলেন। এটা কি জুয়া হলো? জুয়া হলে তো আপনারা প্রেস ক্লাবেও বসতে পারবেন না। তাস খেললেও জুয়া। তাস ধরলেই জুয়া। আর অভিযানে ক্যাসিনো বের করতে পারলে তাদের বাহবা দেওয়া যেত।’ 

সামশুল হক চৌধুরী চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের মহাসচিব। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, ‘ক্লাবের তাস খেলা বন্ধ করে কোনো লাভ হবে না। তাস খেলা বন্ধ করলে ছেলেরা রাস্তায় ছিনতাই করবে। এখানে কোনো ক্যাসিনো নেই। ক্যাসিনো ধরেন, তাস খেলা হয় এ রকম ক্লাব ধরবেন না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ক্যাসিনো এবং মদের ব্যবসা যাঁরা করেন, তাঁদের ধরতে বলেছেন।’

সামশুল হক চৌধুরী এ ছাড়া একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের ক্লাবে অভিযানে তাসের প্যাকেট পাওয়া গেছে মাত্র। সেখানে তো ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর ছিল না। আমার ক্লাবে ক্যাসিনো নেই, জুয়া নেই, মদ নেই। ক্লাবের মহাসচিব হিসেবে মনে করি, এতে সম্মানহানি হয়েছে। চট্টগ্রাম ক্লাব, সিনিয়র্স ক্লাব, অফিসার্স ক্লাবে সেখানেও তো তাস খেলা হয়। সেখানে তো অভিযান চালানো হয় না।’ 

তিনি আরো বলেন, তাস খেললে বোর্ড মানি দেয় ক্লাবকে। এসব পয়সা ক্লাবের কাজে ব্যবহার হয়। ফুটবল ফেডারেশন বা অন্য কোনো সংস্থা তো ক্লাবকে টাকা দেয় না। এইভাবে যদি অভিযান চালানো হয়, তাহলে লোকজন খেলাধুলা ছেড়ে চলে যাবে।

চট্টগ্রামের পটিয়া আসন থেকে টানা তৃতীয়বার আওয়ামী লীগের এমপি হওয়া সামশুল হক চৌধুরী ‘ঘুষের ব্যবসা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রশাসনকে বলব, ঘুষের ব্যবসা যাঁরা করেন তাঁদের ধরেন। ঘুষ যাঁরা নেন, তাঁদের ধরেন। যাঁরা দেন, তাঁদেরও ধরেন।’

ঘুষ কে খান জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আপনি খান। আমি খাই। সবাই ঘুষ খান।’ ঘুষ কে দেন জানতে চাইলে হুইপ বলেন, ‘আপনি দেন। আমি দিই। সবাই দেন। তাঁদের ধরেন।’

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা