kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

মিয়ানমারের ইয়াবা বাংলাদেশ হয়ে যাচ্ছে ভারতেও

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মিয়ানমারের ইয়াবা বাংলাদেশ হয়ে যাচ্ছে ভারতেও

মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসা ইয়াবার একটি অংশ ভারতেও পাচার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের পাচারকারীরা এতে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এক কাভার্ড ভ্যানচালকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ইয়াবা পাচারের তথ্য উঠে আসে। দুই দেশের মূল পাচারকারীদের নামও পেয়েছে পুলিশ। কিন্তু তারা এখনো অধরা। 

চট্টগ্রাম থেকে গত ২৯ আগস্ট নগরীর দেওয়ানহাট ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে যশোর যাওয়ার পথে একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে একটি বস্তা ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই বস্তা থেকে পরে ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে ডবলমুরিং থানার পুলিশ। ওই ঘটনায় ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক কিশোর মজুমদার মামলা করেন। ওই মামলার তদন্ত পর্যায়ে ডবলমুরিং থানার পুলিশ গত শুক্রবার রাতে পাহাড়তলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করে এবং চালক জয়নাল আবেদীনকে (৪৮) গ্রেপ্তার করে। গত শনিবার বিকেলে আসামি জয়নাল চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মো. নোমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জয়নাল যশোর জেলার পোর্ট থানার নারায়ণপুর পুড়াবাড়ি গ্রামের রৌশন আলীর ছেলে। 

আদালতে কাভার্ড ভ্যানচালক জয়নাল আবেদীনের স্বীকারোক্তিমূল জবানবন্দির মাধ্যমে ডবলমুরিং থানা পুলিশ প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হয়, ২৯ আগস্ট রাতে উদ্ধার হওয়া সেই ইয়াবা চালানের গন্তব্য ছিল ভারত। বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাগুলো পাচার হওয়ার কথা ছিল। এর আগেও তিন দফা একই কায়দায় ইয়াবা পাচার হয়েছে। চতুর্থ দফায় পাচারের সময় ইয়াবাগুলো কাকতালীয়ভাবে ধরা পড়ে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই দিন ইয়াবা বহনকারী কাভার্ড ভ্যানটিকে থামানোর সংকেত দিয়েছিলেন মাইক্রোবাস আরোহীরা। মাইক্রোবাস থেকে নেমে আসা ব্যক্তিরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তাঁরা গাড়িটি তল্লাশি করতে পারেন, এ ভয়ে দ্রুত ইয়াবা ফেলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওই সদস্যদের পরে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। নগর পুলিশের কোনো ইউনিটই কাভার্ড ভ্যান তল্লাশির তথা স্বীকার করেনি। এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারতে ইয়াবা পাচার হচ্ছে মর্মে কাভার্ড ভ্যানচালক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এখনো ইয়াবাপাচারের তথ্যটি উঠে এসেছে চালকের জবানবন্দিতে। এখন আসামি আবদুল্লাহ ও কাভার্ড ভ্যানচালক হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে পুলিশ। 

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মো. জয়নাল আবেদীন উল্লেখ করেন, তিনি এবং তাঁর ছেলে মো. আবদুল্লাহ মিলে কাভার্ড ভ্যানটির চালকের দায়িত্ব পালন করেন। এই কাভার্ড ভ্যানের মালিক মো. হযরত আলী। তিনিও যশোর জেলার পোর্ট থানার সাদীপুর গ্রামের মো. জামাল আলীর ছেলে। 
জয়নাল আবেদীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাড়ির মালিক তাঁর প্রতিবেশী। প্রতি মাসে একাধিকবার কাভার্ড ভ্যান নিয়ে তাঁরা পিতা-পুত্র চট্টগ্রাম আসতেন। গত রমজান মাসে গাড়ির মালিক রমজান আলীর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম শহরের সদরঘাট থানার মাদারবাড়ি এলাকায় অবস্থানরত শান ওরফে শানু ওরফে শাহিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তিন দফা ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে যশোর যান এবং সেখানে গিয়ে কাভার্ড ভ্যানের মালিক হযরত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন। প্রতিটি ইয়াবার চালান পৌঁছে দিলে তিনি ২০ হাজার টাকা করে পেতেন। 

জয়নাল জবানবন্দিতে জানান, গত ২৯ আগস্ট মাদারবাড়ি নিউ যমুনা ট্রেডার্স এবং পার্সেল অফিস থেকে বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে ফরিদপুর হয়ে যশোর যাওয়ার সময় তিনি মোবাইল ফোনে শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে শাহিন তাঁকে চারটি প্যাকেটে করে ৪০ হাজার ইয়াবা একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে ভরে দেন। পরে গাড়ির সিটের নিচে ইয়াবাগুলো রেখে তাঁরা যশোরের পথে রওনা দেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন জয়নালের ছেলে মো. আবদুল্লাহ। দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার অতিক্রম করার সময় অলংকারের দিকে যাওয়ার পথে রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। একটি মাইক্রোবাস থেকে নেমে আসা লোকজন দেখে জয়নাল তাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মনে করেন। 

এর পরই তিনি গাড়ির সিটের নিচ থেকে ইয়াবার বস্তা নিয়ে ফ্লাইওভারের বাঁ পাশের রাস্তায় ফেলে দেন। ইয়াবার বস্তা ফেলে দেওয়ার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাভার্ড ভ্যানটিকে মনসুরাবাদ নিয়ে যান। তাঁরা গাড়িটি তল্লাশি করেন, কিন্তু কিছুই পাননি। এ কারণে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। শেষে ইয়াবা ফেলে দেওয়ার কথা মোবাইল ফোনে গাড়ির মালিক হযরত আলীকে জানান জয়নাল। 

জয়নাল উল্লেখ করেন, তাঁর জানা মতে, হযরত আলী ইয়াবার চালান বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবস্থানরত জালাল উদ্দিনের কাছে পাচার করেন। এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা