kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

বন্ধুরাই হত্যা করে আশরাফুলকে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:২১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বন্ধুরাই হত্যা করে আশরাফুলকে

বামে স্কুলছাত্র আশরাফুল। ডানে দুই ঘাতক। ছবি : কালের কণ্ঠ

একসাথে মাদক সেবনের পর বন্ধুরাই শ্বাসরোধ করে খুন করেছিল নিখোঁজ স্কুলছাত্র আশরাফুলকে। লাশ লুকাতে মানিকগঞ্জের জামশা গ্রামের কাছে কালিগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর আশরাফুলের প্রবাসী পিতার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয় পঞ্চাশ লাখ টাকা।

ঘটনার প্রায় দেড়মাস পর পুলিশের হাতে ধরা পড়া ইব্রাহিম (২৪) ও আরিফ (২৩) নামের দুই যুবক গত শনিবার রাত ৮টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দীতে এই তথ্য জানায়। তবে নদীতে অনুসন্ধান করেও আশরাফুলের লাশ এ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা ইউনিয়নের কাফাটয়িা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর একমাত্র ছেলে আশরাফুল ইসলাম। গত ৬ আগস্ট বিকেলে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরদিন আশরাফুলের দাদা নাজিম উদ্দিন মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে যা নিয়মিত মামলা আকারের রেকর্ড করা হয়।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) হানিফ সরকার জানান, ২৫ আগস্ট আশরাফুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় সিংগাইর উপজেলার আজিমপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই মোবাইলের সূত্রে ধরে গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে ইব্রাহিম হোসেন ও আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গত ৬ আগস্ট আশরাফুল তার মোটরসাইকেলসহ ইব্রাহিমকে নিয়ে সিংগাইর উপজেলার উত্তর জামশা গ্রামে যায়। সেখানে আশরাফুল এবং অপর চারজন মিলে আরিফের বাড়িতে মাদক সেবন করে। রাত গভীর হলে একটা বাঁশঝাড়ে নিয়ে আশরাফুলকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে তার লাশ পার্শ্ববর্তী কালিগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। ওই রাতেই তারা আশরাফুলের মোবাইলের ইমো ব্যবহার করে প্রবাসী পিতা মোহাম্মদ আলীর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরো জানায়, ঘটনার কয়েকদিন পর আশরাফুলের মোটরসাইলটি রাজবাড়ি জেলার সাজ্জাদ হোসেনের কাছে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে নিজেরা ভাগ করে নেয়।

ওসি হানিফ সরকার জানান, আশরাফুলের মোটরসাইকেলটি গত শুক্রবার সিলেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। চারজন আসামির একজন বিদেশে চলে গেছে। অপর একজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা