kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

একটি সেতু হলেই কেটে যেত সুন্দরগঞ্জবাসীর দুর্ভোগ

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটি সেতু হলেই কেটে যেত সুন্দরগঞ্জবাসীর দুর্ভোগ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় যোগাযোগের একমাত্র সংযোগ ঘাঘট নদীর উপরে স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় নৌকায় এখন দুপাড়ের মানুষের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন যাবৎ দুপাড়ের মানুষের একটি সেতুর দাবি থাকলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া আশ্বাস পেলেও স্বপ্নের সেই সেতু বাস্তবায়ন হয়নি।

তিন বছর আগে নিরুপায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করেন। কিন্তু সেই ব্রিজটিও ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে গেলে দুপাড়ের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। ফলে চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে দুপাড়ের মানুষদের। তাই যোগাযোগ সচল রাখতে নদী পারাপারে নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা তাদের। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগীরি ও মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকার হাজার হাজার মানুষ ঘাঘট নদীর উপরে দীর্ঘদিন থেকে একটি সেতু নির্মাণের দাবি তুলে আসছেন।

জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা থেকে মিঠাপুকুরের মির্জাপুর, জালালগঞ্জ, বালারহাট, শঠীবাড়ি ওু রংপুর যাওয়ার একমাত্র কম দূরুত্বের সড়কটি এখন সেতুর অভাবে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়তই শতশত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নৌকায় পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই আবার নৌকা পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বেশ দূরুত্বের বিকল্প সড়কে চলাচল করছেন। এ ছাড়াও স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই নৌকায় পারাপার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

বর্ষা শুরু হলেই ওই এলাকার মানুষের মাঝে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। নদী পরাপারে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয় অনেক সময়। ফলে কেউই সময়মত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। অনেকে সময় বাঁচাতে গিয়ে পাড়ের নৌকার অপেক্ষা না করে ঝুঁকি নিয়ে সাঁতারীয়ে নদী পার হন। আর খড়া মৌসুমে নদীতে হাঁটুপানি থাকায় নৌকা চলে না। ফলে হেঁটেই চলাচল করে স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, দুপাড়ের মানুষের চলাচলের একমাত্র সংযোগ সড়কটি উপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করে দুই জেলার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা। তা না হলে দুপাড়ের মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়তই দূরত্ব বাড়তে থাকবে।

স্থানীয় সাতগীরি গ্রামের যুবক আশিকুর রহমান বলেন, অনেক দিন থেকে আমরা একটা স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। নির্বাচন আসলে সব প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে তারা সব ভুলে যায়।

মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাবলু মিয়া বলেন, ঘাঘট নদীর উপরে ব্রিজ না থাকায় আমাদের চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। সেই সাথে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপার করতে হচ্ছে। এ আমাদের চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। সেই সাথে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপার করতে হচ্ছে। এ ছাড়াও স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা সময় মতো পৌঁছাতে পারে না।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন জাপার সভাপতি রেজাউল হক রেজা বলেন, সেতুটি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ঘাঘট নদীর উপরে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ আশু প্রয়োজন। এতে করে দুপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা ১ আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জনস্বার্থে ঘাঘট নদীর উপরে একটি স্থায়ী সেতু অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি নিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তরে কথা বলে আশ্বাস্ত হয়েছি। তবে পার্শ্ববর্তী আসনের এমপি আশিকুর রহমানের সম্মিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর বলেন, বিষয়টি নিয়ে এমপি মহোদয়ের সুপারিশ লেটার দপ্তরে পাঠিয়েছি। আশা করছি স্বল্প সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা