kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

পুলিশ সোর্সদের টাকা না দেওয়ায় হান্নানকে হত্যা, কথিত দম্পতিসহ চারজন আটক

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি    

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুলিশ সোর্সদের টাকা না দেওয়ায় হান্নানকে হত্যা, কথিত দম্পতিসহ চারজন আটক

ঢাকার ধামরাইয়ে জয়পুরা গ্রামের আবদুল হান্নানকে হত্যার ঘটনায় জড়িতের অভিযোগে কথিত দম্পতি ও পুলিশে দুই সোর্সসহ চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন নিহতের স্বজনরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন তারা। পরে আজ রবিবার ১০দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ সেকেন্দার আলী। 

আটককৃতরা হলেন টাঙ্গাইল সদর থানার বেলতলা মধ্যপাড়ার আবদুল খালেক শেখের মেয়ে কল্পনা আক্তার ওরফে নদী (২১), তার কথিত স্বামী ফরিদপুর সদর থানার মৃগী গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম তুষার (২৫), ধামরাই পৌরসভার ইসলামপুর মহল্লার শুকুর আলীর ছেলে রুবেল হোসেন (১৮), ইসলামপুর গোডাউন মোড়ের আবদুল খালেকের ছেলে জুয়েল রানা (৩০)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে জয়পুরার নাগরাই বিলের পরিত্যক্ত গরুর খামারের ছাপড়া ঘরে শামিম, সোহেল ও আবদুল হান্নান আটক তরুণী কল্পনা আক্তার নদীকে নিয়ে ফুর্তি ও ইয়াবা সেবন করছিলেন। ওই রাতেই সেখানে হত্যা করা হয় হান্নানকে। এই ঘটনার পর নদীকে আটক করা হয়। এরপরেই বের হয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য। হান্নানকে নারী ও ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ছিলো তাদের। তাই তারা পরিকল্পনা মোতাবেক পুলিশকেও জানিয়েছিল। কিন্তু কোনো পুলিশ তাতে রাজি হয়নি। পরে নিজেরাই পুলিশ সেজে পরিকল্পনা মোতাবেক গত মঙ্গলবার নদীসহ হান্নানকে ঘটনাস্থলে আটক করে পুলিশের সোর্স জুয়েল রানা, নদীর কথিত স্বামী তুষার, রুবেলসহ আরো কয়েকজন। হান্নানকে আটকের পর তারা নিজেদের পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে মোটা অঙ্গের টাকা দাবি করে পুলিশের। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করায় হান্নানের মাথায় আঘাত করে। একপর্যায়ে হান্নান পুকুরের পানিতে পড়ে যান। এ অবস্থায় হান্নান নিহত হন। এই ঘটনা নিহতের ভাই বাদী হয়ে বুধবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  

বাদী আবদুর রাজ্জাকের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আসামি ধরা হয়নি। তবে নিজেদের চেষ্টায় শনিবার রাত আটটার দিকে কল্পনা আক্তার ওরফে নদী (২১) নামের এক তরুণী ও জুয়েল নামের পুলিশের এক সোর্সকে আটক করা হয়। তাদের দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে জুয়েলের মাধ্যমে আরেক সোর্স রুবেলকে ফোন করে ডেকে আনা হয় থানায়। তাকেও আটক করা হয়। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হান্নান হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে স্বীকার করেছে।

যেভাবে আটক করা হয়

হান্নানের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতের স্বজনরা ইয়াবা বিক্রেতা ও সেবনকারীদের মাঝে বিভিন্ন সোর্স নিয়োগ করেন। এভাবে জানতে পারেন ধামরাই পৌরসভার এক কাউন্সিলরের ছেলের কাছে নিহত হান্নানের মোবাইল ফোন সেট বিক্রি করতে আসে ইসলামপুরের তুষার। পরে সেটি নষ্ট থাকায় কাউন্সিলরের ছেলে তা ক্রয় করেনি। তার মাধ্যমেই ইয়াবা বিক্রেতা ও সেবনকারী তরুণী কল্পনা আক্তার নদীকে ডেকে নেয় পৌরসভার কালিয়াগাড় মহল্লায়। সেখানে থেকে আটক করা হয় নদীকে। পরে তার তথ্য অনুযায়ী পৌরসভার গোডাউন মোড়ের আবদুল খালেকের ছেলে জুয়েলকে তার বাড়ি থেকে আটক করে নিহতের স্বজনরা। পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় তাদের দুজনকে। থানায় বসে জুয়েলের মাধ্যমে ফোন করে আনা হয় রুবেল নামের এক যুবককে। এরপর নদীর কথিত স্বামী তুষারকেও আটক করা হয়। 

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, আটককৃতদের ১০ দিনে রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করার পর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত কিছু বলা যাবে না।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা