kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

ঘুষের টাকাসহ দুদকের হাতে আটক দিনাজপুরের দুই সরকারি কর্মকর্তা

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুষের টাকাসহ দুদকের হাতে আটক দিনাজপুরের দুই সরকারি কর্মকর্তা

ঘুষের টাকা লেনদেনের সময় দিনাজপুর জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের অডিট কর্মকর্তা ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ক্যাশিয়ারকে আটক করেছে সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন চত্বরের একটি চায়ের দোকান থেকে ঘুষ লেনদেনের সময় তাদের আটক করা হয়।

অভিযানে আটককৃতরা হলেন, জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের অডিট কর্মকর্তা আনোয়ার পাশা ও জেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ক্যাশিয়ার মো. ফেরদৌস হোসেন। এ সময় তাদেরকে কাছ থেকে ঘুষের নগদ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

অভিযোগকারী সদর উপজেলার সদরপুর গ্রামের ফরহাদ হোসেন জানান, তার বাবা খলিলুর রহমান দিনাজপুর জেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১২ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৬ সালে মারা যান। মারা যাওয়ার সময় তার পেনশনের কিছু টাকা পাওনা ছিলো। সেই টাকা তুলতে গেলে আটককৃতরা একেক সময় একেক পরিমাণ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ক্যাশিয়ার মো. ফেরদৌস হোসেন ও জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের অডিট কর্মকর্তা আনোয়ার পাশার চাহিদা মতো ঘুষ না দেওয়ায় পেনশনের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ইচ্ছা করে গড়মিল করে কম দেন। গত ১ বছরে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর আনোয়ার পাশার সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার বাবার বকেয়া পেনশনের টাকা তুলতে পারেননি। 

ফরহাদ হোসেন আরো জানান, পরবর্তীতে মো. ফেরদৌস আলম এবং আনোয়ার পাশা পেনশনের বকেয়া টাকা তুলতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। গত ১ সেপ্টেম্বর তাদের দুই জনকে ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করা হয়। তারা ঘুষের আরো ৩০ হাজার টাকার জন্য কয়েকদিন ধরে তাগাদা প্রদান করছিলেন। পরে রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) তাদেরকে ঘুষের ৩০ হাজার টাকা জেলা প্রশাসন অফিসের দক্ষিণ দিকে একটি চায়ের দোকানে বসে দেওয়া হয়। এ সময় সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির পলাশের নেতত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে।

দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির পলাশ জানান, কিছুদিন আগে দিনাজপুর সদর উপজেলার সদরপুর গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন দুদক কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সূত্র ধরে এই অভিযান চালানো হয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা