kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

চাটাই বানিয়ে সংসার চলে উলিপুরের হাছিনাদের

রোকনুজ্জামান মানু, কুড়িগ্রাম (উলিপুর)   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাটাই বানিয়ে সংসার চলে উলিপুরের হাছিনাদের

স্বামীর সাথে চাটাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন হাছিনা বেগম। দুই সন্তানের লেখাপড়া আর এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন এ কাজ করেই। নিরন্তর সংগ্রামী হাছিনা আগে এ কাজ না জানলেও বিয়ের পর স্বামীর কাছ থেকে চাটাই বানানোর কাজ শিখেছেন। ওই গ্রামে হাছিনার মতো অনেকেই এখন চাঁটাই বানানোর কাজ করেন।

উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার প্রায় সাড়ে ৫০০ পরিবারের একমাত্র পেশা বাঁশ শিল্প। উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের টশা পাড়া, কাসারীয়ার ঘাট, চড়ুয়াপাড়া, বগাপাড়া গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক শ্রমজীবী পরিবারের বসবাস। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষেরই পেশা বাঁশশিল্প। বাঁশের তৈরি জিনিষ বিক্রি করেই সংসার চলে তাদের। বছরের পর বছর ধরেই তারা বাঁশ দিয়ে ডালি, টালা, কুলা, মাছ ধরার উপকরণ, ধান রাখার ডোল, ডুলি, হাতপাখা, চালুন, ঘরের ছাদ তৈরি করে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করে আসছে। এ ছাড়া উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের ফকির পাড়া, ভাসা পাড়া, উচাভিটা গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার এ কাজের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন।

এদিকে পার্শ্ববর্তী চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের পাটোয়ারী, ময়নার খামার, বনগ্রাম, ফকিরের হাট, মজারটারি গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার এ কাজ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। এসব গ্রামের তৈরি বাঁশের চাটাই যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

সরেজমিনে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের টশা পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষ এক সঙ্গে বসে বাঁশ দিয়ে নানা উপকরণ তৈরি করছেন। খোঁশ গল্পেও মশগুল অনেকে। আবার কেউ বসে মোবাইল ফোনে গান শুনছেন, আর চাটাইয়ের কাজ করছেন।

এ সময় উপল আলী, নুর মোহাম্মদ, বেবি বেগম, জাহিদুল ইসলাম, ফজলুল হকসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এ পেশায় তারা স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করছেন। এদের প্রত্যেকের বাড়িই যেন এক একটি বাঁশঝাড়। নিজের বাঁশঝাড়ের বাঁশ কেটে সার্বক্ষণিক চাটাই তৈরির কাজ করেন পরিবারের অধিকাংশ লোকজন। বাঁশের তৈরি উপকরণ বিক্রি করে দিব্যি সংসার চলে তাদের।

অনেকেই জানান, দল বেঁধে কাজ করতে মজা অনেক। তাতে কাজের গতিও বাড়ে আর সময়ও কাটে। চলে নানা ধরনের খোশগল্প, মোবাইলে গান শোনা, রেডিওর খবর শোনা।

গ্রামটিগুলোতে গেলেই মনে হয় বাঁশঝাড়ে ঘেরা ছায়া শীতল নিরিবিলি এক মনোরম পরিবেশ। আর্থিক দৈন্য থাকলেও সবাই মিলেমিশে মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশে ভালোভাবেই জীবন-যাপন করছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা