kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফতেপুর গ্রামের তিন বাসিন্দাকে মারধর ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ক্যাম্পাসের সোহরাওয়ার্দী হলে ওই তিনজনকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৭টায় ক্যাম্পাসের দুই নম্বর গেট এলাকায় বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। নাজিম ক্যাম্পাসে বগিভিত্তিক সংগঠন বাংলার মুখের নেতা।

জানা যায়, মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে স্থানীয় ফতেপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ইলিয়াস, মো. আরমান ও মো. ইসমাইল নামে তিনজনকে বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে নিয়ে যান নাজিম উদ্দিন। পরে সেখানে তাঁদের এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। সহকারী প্রক্টর হানিফ মিয়া গিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন। 

এ ঘটনা জানাজানি হলে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের দুই নম্বর গেট এলাকায় বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়রা জানান, নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নাজিম উদ্দিন ওই তিনজনকে মারধর করেছেন। তাঁরা চুরির সঙ্গে যুক্ত নন। বরং নাজিম উদ্দিন মোবাইল চুরির সঙ্গে জড়িত।

এই বিষয়ে সহকারী প্রক্টর হানিফ মিয়া বলেন, ‘ওই তিনজন নাজিম উদ্দিনের মোটরসাইকেল চুরি করেছে। এটি তাঁরা স্বীকার করেছে। তাঁদের মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, স্থানীয় লোকজন মারধরের অভিযোগ করেছে এবং বিক্ষোভও করেছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, নাজিম তাঁদের মোবাইল ছিনতাই করেছে। এখন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

জানতে চাইলে নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ওই তিনজন মোটরসাইকেল চুরি করেছে। যার প্রমাণ রয়েছে। তাঁদের মারধর করা হয়নি। হালকা চড়, থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। আর ওরা যেসব অভিযোগ করছে তার ভিত্তি নেই।

মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ ও নাজিম উদ্দিনের মারধর নিয়ে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য শিরীণ আখতার ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন ফতেপুর তিন নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মহিন উদ্দিন ও দুই নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ সোহেল ও হাটাহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগে সাধারণ সম্পাদক মো. হাছান। 

বৈঠকের পর মো. মহিন উদ্দিন বলেন, নাজিম উদ্দিন এলাকায় অসহায়দের ওপর নির্যাতন করে আসছেন। তিনি মানুষের গরু, ছাগল নিয়ে গিয়ে টাকা দাবি করেন। গতকাল তিনজনের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এবং তাঁদের মারধর করে থানায় পাঠানো হয়েছে। এটি নিয়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন। উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন ওই তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং মোবাইল ফেরত দেওয়া হবে।’

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ 

উল্লেখ্য, ৪ সেপ্টেম্বর নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ল্যাব সহকারী মো. ফজলুল করিম লিখিতভাবে মারধরের এই অভিযোগ করেন। পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি হাটহাজারী থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা