kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

হান্নান হত্যায় তরুণীসহ আটক ৩, সন্দেহের তীর পুলিশের দিকে

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হান্নান হত্যায় তরুণীসহ আটক ৩, সন্দেহের তীর পুলিশের দিকে

ঢাকার ধামরাইয়ে গত মঙ্গলবার রাতে জয়পুরা গ্রামের আবদুল হান্নানকে হত্যার ঘটনায় জড়িতের অভিযোগে এক তরুণী ও পুলিশের দুই সোর্সসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে নিহতের স্বজনরা।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তরুণীকে নিয়ে পুলিশ অভিযানে রয়েছে বলে জানা গেছে। আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যসহ একটি চক্র জড়িত রয়েছে বলে দাবি করছেন নিহতের ভাই মামলার বাদি আবদুর রাজ্জাক।

বাদি আবদুর রাজ্জাকের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আসামি ধরা হয়নি। তবে নিজেদের চেষ্টায় শনিবার রাত ৮টার দিকে কল্পনা আক্তার ওরফে নদী (১৯) নামের এক তরুণী ও জুয়েল নামের পুলিশের এক সোর্সকে আটক করা হয়। তাদের দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে জুয়েলের মাধ্যমে আরেক সোর্স রুবেলকে ফোন করে ডেকে আনা হয় থানায়। পরে তাকেও আটক করা হয়। 

তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হান্নান হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে তারা স্বীকার করেছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যর উপস্থিতি ছিল বলে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মামলার বাদিসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর আগে বুধবার শামিম ও সোহেল নামের দুই যুবককে আটক করে পুলিশ।

শামিম, সোহেল ও আবদুল হান্নান আটক তরুণী কল্পনা আক্তার নদীকে নিয়ে ফুর্তি ও ইয়াবা সেবন করছিলেন মঙ্গলবার রাতে জয়পুরার নাগরাই বিলের পরিত্যক্ত একটি পুকুর পাড়ে গরুর খামারের একটি ছাপড়া ঘরে। ওই রাতেই সেখানে হত্যা করা হয় হান্নানকে।

নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে গতকাল শনিবার রাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে যারা আবদুল হান্নানকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে তাদের মধ্যে ইয়াবাসেবী, ইয়াবা বিক্রেতা পুলিশের সোর্স জুয়েল, রুবেল, তুষারসহ কোনো বাহিনীর সদস্যরা হত্যা মিশনে অংশগ্রহণ করে। 

যেভাবে তাদের আটক করা হয়- হান্নানের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতদের স্বজনরা ইয়াবা বিক্রেতা ও সেবনকারীদের মাঝে বিভিন্ন সোর্স নিয়োগ করে। এভাবে জানতে পারেন ধামরাই পৌরসভার এক কাউন্সিলরের ছেলের কাছে নিহত হান্নানের মোবাইল ফোন সেট বিক্রি করতে আসে ইসলামপুরের তুষার। পরে সেটি নষ্ট থাকায় কাউন্সিলরের ছেলে তা ক্রয় করেনি।

পরে তার মাধ্যমেই ইয়াবা বিক্রেতা ও সেবনকারী তরুণী কল্পনা আক্তার নদীকে ডেকে নেয় পৌরসভার কালিয়াগাড় মহল্লায়। সেখানে থেকে আটক করা হয় নদীকে। পরে তার কথামত পৌরসভার গোডাউন মোড়ের আবদুল খালেকের ছেলে জুয়েলকে তার বাড়ি থেকে আটক করে নিহতের স্বজনরা। পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় তাদের দুজনকে। থানায় বসে জুয়েলের মাধ্যমে ফোন করে আনা হয় রুবেল নামের এক যুবককে।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত কিছু বলা যাবে না।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা সন্দেহ করে আসছিলেন, যে নারী নিয়ে ফুর্তি ও ইয়াবা সেবন করছিলেন হান্নান, শামিম ও সোহেল ওই নারীর সঙ্গে আইন শৃংখলার কোনো বাহিনীসহ একটি চক্রের সম্পর্ক রয়েছে। হান্নানকে ইয়াবাসহ নারী দিয়ে আটক করে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিতে চেয়েছিল একটি চক্র। কিন্তু আর্থিক সুবিধা নিতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়ে গেছে যা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা