kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

সুন্দরগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুন্দরগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় কবির মিয়া (১১ মাস) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। 

উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেকরির চর গ্রামের সাজু মিয়ার ছেলে কবির মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা সদরের মীরগঞ্জ বাজারের 'শান্তি নিকেতন চিকিৎসালয়' এর পল্লী চিকিৎসক ডাক্তার মো. শামছুল আলমের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক শামছুল আলম রোগী সম্পর্কে শুনে তাৎক্ষণিকভাবে শিশু কবির মিয়ার শরীরে 'ট্রাইম্যাক্স ইনজেকশন' পুশ করেন। এর কিছুক্ষণ পরই শিশু কবির মিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন ওই চিকিৎসক শামছুল আলম শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেন। শিশুর অভিভাবকরা দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে থানার এসআই মোতালেব মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, বিধি মোতাবেক একজন পল্লী চিকিৎসক শিশু চিকিৎসার ক্ষেত্রে 'ট্রাইম্যাক্স ইনজেকশন' দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন না। এমনকি নিজেও ট্রাইম্যাক্স ইনজেকশন শিশুর শরীরে পুশ করতে পারেন না। তিনি আরো বলেন, পল্লী চিকিৎসক শামছুল আলমের বিরুদ্ধে এ ধরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শতকরা ৯০ ভাগ ভর্তি হওয়া অসুস্থ শিশু রোগী পল্লী চিকিৎসক শামছুল আলমের 'শান্তি নিকেতন চিকিৎসালয়' থেকে আসা।
  
শামছুল আলম নিজেকে সার্টিফিকেট ইন প্যারামেডিকস্ (রাজশাহী), মেডিক্যাল প্রাকটিশনার, নবজাতক মা, শিশু ও কিশোর রোগ চিকিৎসক (গভ. রেজি নম্বর ১০৯৪৩০) দাবি করেন। শামছুল আলম বলেন, শিশু কবির মিয়াকে নিয়ে দুপুরে তার বাবা সাজু মিয়া আমার চিকিৎসালয়ে আসে। আমি তাকে ট্রাইম্যাক্স ইনজেকশন পুশ করি এবং নেবুলাইজারের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে ওষুধ প্রয়োগ করি। এর কিছুক্ষণ পর আমার চিকিৎসালয় থেকে তারা চলে যায়। তিনি বলেন, হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। আমি রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করেছি। তবে ট্রাইম্যাক্স ইনজেকশন শিশু চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমি প্রয়োগ করতে পারব কি-না তা আমার জানা নেই। রোগ অনুযায়ী ইনজেকশন দিয়ে থাকি এবং ফলও পাই। 

শিশু কবিরের বাবা সাজু মিয়া জানান, ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই আমার বাচ্চাটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ডাক্তারের শাস্তি চাই। বিভিন্ন স্থানে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোলেমান আলী কালের কণ্ঠকে জানান, মৃত শিশুটির বাবা সাজু মিয়া আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। এর আগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার আশরাফুজ্জামান সরকারের কাছ থেকেও মোবাইল ফোনে বিষয়টি জেনেছি। শিশুর পিতাকে আমি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। তবে পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্ত চিকিৎসককে খোঁজা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা