kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

বহিরাগতদের হামলা; আহত ২০

হল ছাড়ার নির্দেশ অমান্য করে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হল ছাড়ার নির্দেশ অমান্য করে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে চলা আন্দোলনের তৃতীয় দিনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্র-ছাত্রীসহ অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। 

আহতদের মধ্যে তাওহীদ, কাউসার, শাহীন, জাহিদ হাসান, নিউটন বিশ্বাস, সৈকত, আশিককে গুরুতর আহতাবস্থায় গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাওহীদ ফার্মেসি তৃতীয় বিভাগের ছাত্র। বাকিরা বিভিন্ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অন্য আহতরা টুঙ্গিপাড়া ও শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। 

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. হুমায়ুন কবীর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নৈতিক ও ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ জানিয়ে সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে কর্মরত।

পদত্যাগের বিষয়টি স্বীকার করে মো. হুমায়ুন কবীর বলেছেন, নীতি ও নৈতিকতার বিষয় থেকে আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই সাথে শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে সকল শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রারের আদেশ অমান্য করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. নুরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত রাখতে, বিবাদমান গ্রুপসমূহের মধ্যেকার মতানৈক্য নিরসনে এবং সম্ভাব্য অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়াতে রিজেন্ট বোর্ডের সম্মানিত সদস্যগণের মৌখিক অনুমতির প্রেক্ষিতে আসন্ন পূজার নির্ধারিত ছুটির সাথে ২২ সেপ্টম্বর থেকে ৩ অক্টোবর তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহের শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. নুরউদ্দিন আহমেদ ছুটি ও হল ত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার পর সকাল থেকেই নবীনবাগ, হাসপাতাল, এলজিইডি অফিস মোড়, সোনাকুড়, নিলারমাঠ, সুবাহান সড়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বাধা সৃষ্টি করে বহিরাগতরা। তারা শিক্ষার্থীদের বহনকারী ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার থেকে নামিয়ে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ না করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। ওই সব স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর ওপর বহিরাগতরা হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০ ছাত্র-ছাত্রী আহত হন। 

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মো. বশির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো।  তাদের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা তাদের বুঝিয়ে আন্দোলন থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তিনি আরো জানান, শিক্ষার্থীরা ১৬ দফা দাবি দিয়েছিল। তাদের সকল দাবিই মেনে নেওয়া হলেও কেন তারা আন্দোলন করছে তা আমার বোধগম্য নয়। 

গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. অসিত মল্লিক জানিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন তাদেরকে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমরা ডাক্তার ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রেখেছি। আমরা কোথাও কেউ আহত হওয়ার খবর পেলেই সেখানে গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছি।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে বহিরাগতরা যাতে হামলা করতে না পারে তার জন্য ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ওই দিন বিকাল থেকে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেন। যা এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গত বুধবার জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নিলেও উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে অন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা