kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

দুই ভায়রার বিরোধে স্কুল বিপাকে

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই ভায়রার বিরোধে স্কুল বিপাকে

দুই ভায়রার বিরোধে নাটোর গুরুদাসপুরের একটি স্কুলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ সাত্তার-রেকায়েত প্রতিবন্ধী স্কুলে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। স্কুল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠাতা এসএম নজরুল ইসলাম ও তার ভায়রা অধ্যক্ষ আবু সাঈদ নানা ইস্যুতে পরস্পর বিরোধী অবস্থান গ্রহন করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিবন্ধী শিশুদের কথা বিবেচনা করে গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া মহল্লায় ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় একটি স্কুল। সাবেক সেনা সদস্য এসএম নজরুল ইসলাম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করে নামকরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ তার দুই ভাই সাত্তার ও রেকায়েতের নামে। বিদ্যালয়ে ৪৪জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম নজরুল ইসলামের ভায়রা খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবু সাঈদ। ২০১৭ সালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে মনোনিত সদস্য রাখা হয় অধ্যক্ষ আবু সাঈদকে। তিনি সদস্য হওয়ার পর নজরুল ইসলাম বিদ্যালয় পরিচালনার ভার অনেকাংশে ছেড়ে দেন ভায়রা সাঈদের ওপর। এক পর্যায়ে বিরোধ শুরু হলে আবু সাঈদ কৌশলে স্কুল থেকে বাদ দেন প্রধান শিক্ষক আলী হাসান ও সহকারি শিক্ষক চুমকি খাতুনকে। চুমকি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলামের মেয়ে, আর আলী হাসান জামাতা। বর্তমানে দুই ভায়রার মধ্যে বিরোধ চলায় প্রায়ই স্কুলে তালা দেয়া হচ্ছে, করা হচ্ছে মানববন্ধন। দুজনের গ্রুপিং লবিংয়ে বিভক্ত শিক্ষকরা।

স্কুলটির এমপিওভূক্তি প্রক্রিয়ায় নাম পরিবর্তনসহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে আবু সাঈদের বিরুদ্ধে। ভায়রা নজরুল ইসলামসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে এলাকায় মানববন্ধন করেছেন। অন্যদিকে সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে তালা দেয়াসহ নানা অভিযোগে বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছন আবু সাঈদ।

বিরোধ ও জটিলতার কারণে বর্তমানে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন। তিনি বলেন,'বিদ্যালয় পরিচালনা বিষয়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হতেই পারেন। তবে বিদ্যালয় বন্ধ করার এখতিয়ার কারো নেই। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

প্রতিষ্ঠাতা এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, 'এক সময় আবু সাঈদের সাথে শিক্ষক কর্মচারীদের মনোমালিন্য হয়। এরপর মনগড়াভাবে তিনি স্কুল পরিচালনা করায় এমপিও অন্তর্ভূক্তি থেকে পিছিয়ে পড়তে হয়। বিদ্যালয়ে তালা দেয়ার বিষয়টি আমার অজানা।'

আবু সাঈদ বলেন, 'প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আমি ত্যাগ স্বীকার করে মিমাংসায় বসতে রাজি আছি।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা