kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ 'বৃক্ষ শিশু' রিপনের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:২৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ 'বৃক্ষ শিশু' রিপনের

'মা, আব্বা আর দুই বোন ছাড়া আমাকে কেউ পছন্দ করে না। স্কুলে কেউ আমার কাছে আসতে চায় না চামুচ দিয়ে ভাত খাই। অন্য বন্ধুদের মতো খেলতে পারি না। কোনো কাজ করতে পারি না।' মাত্র ৯ বছর বয়সী শিশুটি খুব নিচু সুরে কথাগুলো বলছিল। তার ছোট্ট বুকটা চিরে বের হয়ে আসছিল হাহাকার। জন্মের ৬ মাসের মাথায় অজ্ঞাত এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয় সে। শুকনো ঘায়ে ভরে গেছে তার হাত ও পায়ের তালু। এ অজ্ঞাত রোগে বন্দি পড়েছে তার শৈশব। অনেকেই তাকে 'বৃক্ষ শিশু' বলেই জানেন। তার হাত ও পায়ের তালু দেখলে মনে হবে ওগুলো যেন কোনো পুরনো বৃক্ষের ছাল-বাকল ঢেকে রেখেছে।

সে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কেটগাঁও গ্রামের জুতা সেলাইয়ের কাজে নিয়োজিত দরিদ্র মহেন্দ্রনাথ রায়ের একমাত্র ছেলে রিপন। উপজেলা কেটগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করার সুযোগ হয় তার। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট সে।
 
শিশু রিপনের বাবা মহেন্দ্রনাথ রায় জানান, রিপন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না কিংবা হাত দিয়ে খাওয়া-দাওয়াও করতে পারে না। এ অবস্থা দেখে তার সাথে কেউ খেলতেও চায় না। তার মা গোলাপী রাণী জানান, ডাক্তার দেখিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। চিকিৎসকরা ঢাকা নিয়ে যেতে বলেছিল। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগীতায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকবার অপারেশন করা হয়। ফলে কিছুটা সুস্থ হয় রিপন। বর্তমানে রিপন তার বাড়িতে ১ বছর ধরে অবস্থান করছেন। কিন্তু কোনো প্রকার ঔষধ-পত্র কেনার টাকা নেই পরিবারের। কোনো সরকারি সহযোগিতা বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগীতা না পাওয়ায় থমকে গেছে তার চিকিৎসা, বিপাকে পড়েছেন তারা। ফলে দিন দিন তার রোগটি বেড়েই চলছে বলে রিপনের মা জানান।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র রায় জানান, এ রোগের চিকিৎসা করা ব্যয়বহুল। সরকার ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসলে চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। তার বাবা-মা খুবই গরীব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা