kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে ইফাদ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৯:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে ইফাদ

ইফাদের বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পের উপকারভোগীদের সাথে কথা বলছেন কানাডিয়ান ডেলিগেশন ইফাদ এর অর্থ যোগানদাতা মিঃ স্টিফেন পর্টার।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হাওর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। সম্প্রতি এসব প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন কানাডিয়ান ডেলিগেশন ইফাদ এর অর্থ যোগাদাতা মি. স্টিফেন পর্টার।

শুক্রবার উপজেলার পশ্চিমবাগ বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য নির্মিত সেট, পশ্চিম ভাগ রাস্তার স্ল্যাব, কাজাউড়া কিল্লা, আজমিরীগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনের উন্নয়ন প্রকল্প, উদেবপুর গ্রামের প্রতিরক্ষা দেওয়াল ও উদেবপুর গ্রাম অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন মি. পর্টার। এ সময় তিনি ইফাদের প্রকল্পের কাজের উপকারী ভোগী নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন। হাওরে অঞ্চলের কাজগুলো দেখেও শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের গল্প শুনে অভিভূত হন এবং আরো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শন শেষে প্রকল্প পরিচালক (হিলিপ) গোপাল চন্দ্র সরকার সাংবাদিকদের জানান, হাওর অঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবন মান উন্নয়নে দেশের পাঁচটি জেলা ও ২৮ উপজেলায় কাজ করছে ইফাদ। এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে হাওর অঞ্চলের মানুষের দারিদ্র্যতা দূরীকরণে সহায়তা প্রদান করাসহ জীবন মান উন্নত করা।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে হাওর অঞ্চলে নানা সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে ইফাদ। এক সময় হাওর অঞ্চলকে বলা হতো শুকনায় পাও, আর বর্ষায় নাও। শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে হাওর অঞ্চলের মানুষের চলাচল করতে না হয়, এজন্য রাস্তা নির্মাণ করছে। নৌকার জন্য ঘাট নির্মাণ করছে।

তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলের মানুষ বোরো চাষাবাদের উপর নির্ভশীল। কিন্তু যখন বোরো জমিনের ধান ঘরে তোলার সময় তখনই আগাম বন্যা পানি এসে ধান তলিয়ে নিয়ে যায়। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। সে জন্য কৃষকদের ৪/৫ দিন আগে কৃষকদের কাছে সর্তক বার্তা পৌঁছানো যায়, সেদিকে কাজ করছে ইফাদ। আগে সতর্ক বার্তা পৌঁছে দিলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। তারা জমি থেকে ধান কেটে ফেলবেন। সেই ধান শুকানোর জন্য আমরা কিল্লা নির্মাণ করে দিচ্ছি। কিল্লায় কৃষকরা ধান শুকাতে পারবেন।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০১৭ সালে হঠাৎ করে বন্যা এসে কৃষকদের জমি পানিতে তলিয়ে নিয়ে যায়। সে সময় যে কৃষকরা জমি কেটেছিলেন তাদের শুকানোর জায়গা ছিল না। সেখানে ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কিল্লা নির্মাণ করা ছিল। সেই কিল্লায় কৃষকদের ৪ হাজার মন ধান রক্ষা পায়।

তিনি বলেন,প্রকল্পের মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের বিভিন্ন কাজের উপরে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট প্রধান করা হবে। সেই সার্টিফিকেট নিয়ে বিশ্বের যে কোন দেশে গেলে কাজ করতে পারবেন। এছাড়াও বেকার যুবকদের ড্রাইভিং, ফ্রিজ, এসি রিফিয়ারিংয়ের কাজ শেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি ২ হাজার মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে। হাওর অঞ্চলে সেনিটারী লেট্রিন প্রদান করা হচ্ছে। এতে হাওর অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

পরিদর্শনকালে মি. পর্টারের সাথে ছিলেন ইফাদের কান্ট্রি প্রোগাম অফিসার সেরিনা তাবাসুম, প্রকল্প পরিচালক গোপাল চন্দ্র সরকার, এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ তানজির উল্লাহ সিদ্দিকী, উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোসাদেকুল ইসলাম, আজমিরীগঞ্জ থানার এসআই মফিদুল ইসলাম, বানিয়াচং থানার এসআই আমিনুল ইসলামসহ এলজিইডি কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা