kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

ক্ষোভ থেকেই হত্যা, স্বীকারোক্তি

স্ত্রী-সন্তানদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ সুমন, চোখের জলে শেষ বিদায়

নারায়ণগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:০৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্ত্রী-সন্তানদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ সুমন, চোখের জলে শেষ বিদায়

নিজের পারিবারিক কলহে শ্যালিকা ও তার স্বামীর হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি আব্বাস। ছোট শ্যালিকা ও তার স্বামীর ভরসায় আব্বাসের স্ত্রী ইয়াছমিন স্বামীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। আর এ কারণেই শ্যালিকাকে শায়েস্তা করতে হত্যা পরিকল্পনা করে আব্বাস। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার পর শ্যালিকা নাজনীনের সিদ্ধিরগঞ্জে সিআই খোলা এলাকার ভাড়া বাসায় যায়। যাবার সসম বাসা থেকে সঙ্গে ছোরা নিয়ে যায় আব্বাস। এরপর নাজনীনের বাসায় গিয়ে প্রথমে নাজনীনকে এবং পরে তার শিশু দুই কন্যাকে জবাই করে হত্যা করে সে। ওই সময় তার প্রতিবন্ধী মেয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে বিরক্ত হয়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় সে। 

আজ শুক্রবার বিকেলে ঘাতক আব্বাস নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালতে নিজের ছোট শ্যালিকা ও তার দুই শিশুকন্যাকে হত্যার বিষয়ে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব বিষয় জানায়। 

বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশের এসআই কামাল হোসেন। তিনি জানান, আদালতে জবানবন্দি প্রদান শেষে আসামি আব্বাসকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আগের দিন বৃহস্পতিবার সকালে হত্যাকাণ্ডের পর বিকেলেই সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি ও পুলিশের একটি টিম। রাতেই ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত গৃহবধূ নাজনীন বেগমের স্বামী সুমন মিয়া বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

এদিকে দুই শিশু সন্তানসহ নিহত গৃহবধূ নাজনীন আক্তারকে চোখের জলে বিদায় দিয়েছে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। আজ দুপুরে নিহতদের ময়নাতদন্তের পর লাশ সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে বাদ আসর জানাজা শেষে আদমজী কবরস্থানে পাশাপাশি নিহত তিনজনকে দাফন করা হয়। স্ত্রী ও আদরের দুই মেয়েকে হারিয়ে আবদুস সোবহান সুমন বাকরুদ্ধ। নিহতদের লাশ সুমিলপাড়ায় পৌঁছার পর তাদের একনজর দেখতে স্থানীয় নারী-পুরুষরা ভিড় করেন। তাদের সবার মুখে ছিল আফসোস আর ঘাতকের প্রতি ঘৃণা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা