kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

প্রত্যাহার, তদন্ত চলমান

সোনাগাজীতে এবার এএসআইয়ের ধর্ষণ কেলেঙ্কারি

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:২৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সোনাগাজীতে এবার এএসআইয়ের ধর্ষণ কেলেঙ্কারি

সোনাগাজীতে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুজন চন্দ্র দাস নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ফেনীর পুলিশ লাইনসে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। তিনি সোনাগাজী মডেল থানার এএসআই (সহকারী উপরিদর্শক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল আহমেদ ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি অফিসের অপরাধ বিভাগের পুলিশ সুপার হাসান মাহমুদ তদন্ত করছেন।

বৃহস্পতিবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া হোসেনের আদালতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধর্ষণ করেছে বলে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর তাকেসহ তার পালক পিতা-মাতাকে চাচা ও চাচাতো ভাই মিলে মারধর করে আহত করে। ওই ঘটনায় ওই দিন সে বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় চাচা, চাচি ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই সুজন চন্দ্র দাস যাতায়াত খরচ চাইলে দিতে পারেননি অসহায় ওই নারী। অভিযোগ দিয়ে নিরাশ হয়ে বের হওয়ার সময় থানার মাঠে দেখা মিলে সুন্দরী নামের প্রতারক এক নারীর সাথে। সে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই নারীকে তার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে 'বোন' ডেকে তার বাসায় রেখে দেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে এএসআই সুজনকে দিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করায় সুন্দরী। একই রাতে ১২টার দিকে সঞ্জু শিকদার, আফলাছসহ পাঁচজন যুবককে পুলিশের লোক বলে তার ওপর লেলিয়ে দেয়। তারা ওই অসহায় নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষকদের সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই নারী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার সাথে থাকা আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের রিং, আট আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। সকালে জ্ঞান ফিরলে সুন্দরী নামের ওই প্রতারক নারীর কাছে গৃহবধূ তার ওপর এই নির্যাতনের কারণে জানতে চাইলে সে সঞ্জু শিকদার ও আফলাছ নামের দুই যুবককে ফের ডেকে এনে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করায়। তারা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেয়।

এর পর ঘটনাটি জানাতে ওই নারী থানায় গেলে কর্তব্যরত এএসআই সুজন চন্দ্র দাস সুন্দরী নামের ওই নারীকে মোবাইলে জানিয়ে দেন যে তার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। খবর পেয়ে সুন্দরী তাৎক্ষণিক থানায় এসে ওই নারীর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। তখন সেই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে ঘটনাটি সামাজিকভাবে সমাধান করতে বলে তাড়িয়ে দেন।

পরে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে সঞ্জু শিকদার, সুন্দরী ও আফলাছ হোসেনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও আরো তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মঙ্গলবার রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে সে পুলিশের ভয়ে প্রথমে ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মামলায় উল্লেখ করেনি বলে তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। পুলিশ মঙ্গলবার রাতে সঞ্জু শিকদার (৩৫) ও নারী প্রতারক সুন্দরীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করেছে।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও নির্যাতিত গৃহবধূ জানান, আমিরাবাদ ইউনিয়নের উত্তর সোনাপুর গ্রামের সাহাব উদ্দিন ওই নারীকে দত্তক নিয়ে লালন-পালন করেন। উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের মান্দারী গ্রামের জনৈক রিপন নামে এক যুবলীগকর্মীর কাছে ১৪ বছর পূর্বে বিয়ে দেন। গত ৩ বছর পূর্বে আধিপত্যের জের ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা রিপনকে গুলি করে হত্যা করে। সে ১৩ বছর ও ৭ বছর বয়সী দুই সন্তান নিয়ে পালক পিতার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। নিঃসন্তান পালক পিতা তার নামে নামে বসতবাড়িতে জমি দান করার প্রস্তাব করেন। এ খবর জানাজানি হলে সাহাব উদ্দিনের ভাই ও ভাতিজারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। 

ওই নারী সমাজের লোকদের জানালে কেউ দায়িত্ব না নেওয়ায় একপর্যায়ে সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সোনাগাজী মডেল থানার ওসির কাছে নিয়ে যান। বিষয়টি অবগত হয়ে ওসি বাদিনীর ভাষ্যমতে তাৎক্ষণিক মামলাটি রুজু করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে শিকদার ও সুন্দরীকে আটক করে। সঞ্জু শিকদার এর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

ওদিকে, সুন্দরী চরদরবেশ ইউনিয়নের চরসাহাভিকারী গ্রামের নূরুজ্জামানের কন্যা ও এক কন্যা সন্তানের জননী। সে-ও একজন স্বামী পরিত্যাক্তা নারী। সে গত তিন বছর ধরে সোনাগাজী মডেল থানায় কর্মরত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় বুয়ার কাজ করত। সে সোনাগাজী কলেজ রোডস্থ মাঝিবাড়ির খোকার ভাড়াবাসায় বসবাস করত। সেখানে বখাটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিভিন্ন প্রবাসী ও ব্যবসায়ী যুবকদের ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করত। একাধিক পুলিশ সদস্যের সাথে তার সখ্যতা থাকায় কেউ ভয়ে মুখ খুলত না। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে।

উল্লেখ্য, সোনাগাজী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের কলেজ রোডের মাঝি বাড়ির খোকন মিয়ার রহিমা আক্তার ওরফে সুন্দরীর ভাড়াবাসায় ১৫ সেপ্টেম্বর রবিবার দিবাগত গভীর রাতে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার সাথে থাকা এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও একটি মোবাইল ফোন লুটে নেয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা