kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

পায়রায় হারিয়ে গেল শতাধিক পরিবার

মো. ইমরুল কায়েস, পবিপ্রবি প্রতিনিধি    

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৪:৫৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পায়রায় হারিয়ে গেল শতাধিক পরিবার

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন। ইউনিয়নের বাহেরচরের পাশ দিয়ে চলে গেছে পায়রা নদী। যাওয়ার পথ মোটেও মসৃণ নয়। কমবেশি তাণ্ডব নিয়েই এর গতি। তাতে ভাঙতে থাকে পাড়বর্তী এলাকা। সম্প্রতি বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা।

নদীর জোয়ার-ভাটার তীব্র স্রোতের চাপে ভাঙনে প্রায় শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ কেউ এরইমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অধিকাংশ পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

বাহেরচরের বাসিন্দা জাকির হাওলাদার বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। খেয়ে না খেয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বহু কষ্টে দিন কাটে আমাদের।

আঙ্গারিয়ার ইউপি সদস্য রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, বাহেরচর গ্রামের প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরো অসংখ্য ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখনি ভাঙন রোধ করা না গেলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ইউনিয়নের বহু ঘরবাড়ি ও আবাদি জমির ফসল নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। 

ভিটেমাটি নদী ভাঙনের মুখে থাকা জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, 'আমরা ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহযোগিতা চাই না। সরকারের কাছে একটাই দাবি-নদী শাসন করে আমাদের ভিটেমাটি রক্ষা করা হোক। এ ছাড়া ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার বলেন, গত এক সপ্তাহে বাহেরচর গ্রামের শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রতিদিনই ভাঙছে, ভাঙনের কবলে পড়া প্রায় আড়াই'শ থেকে তিন শতাধিক অসহায় মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তিনি বলেন, নদীভাঙনে বাহেরচরের  প্রায় শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আংগারিয়া ইউনিয়ন উপজেলার মানচিত্র থেকে অচিরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তিনি ভাঙনকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।

দুমকি উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, ভাঙনের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি খুব শিগগির সংশ্লিষ্ট মহল ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেবে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, বাহেরচরের ভাঙন পরিদর্শনে লোক পাঠিয়েছি। খুব শিগগির ভাঙন ঠেকাতে তীররক্ষা বাঁধ তৈরির আশ্বাস দেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা